মঙ্গলবার; ২৬ মে ২০২৬; ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পদ্মা সেতুতে স্মার্ট টোলিং, সামনে যুক্ত হবে আরও সেতু ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

পদ্মা সেতুতে স্মার্ট টোলিং, সামনে যুক্ত হবে আরও সেতু

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১৬:৪৭, ২৫ মে ২০২৬

ঈদযাত্রাকে আরও স্বস্তিদায়ক করতে পদ্মা সেতুতে চালু হয়েছে দেশের প্রথম সমন্বিত ক্যাশলেস টোলিং সেবা ডি-টোল। এসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) পরিচালিত এই ব্যবস্থায় টোল প্লাজায় থেমে নগদ অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন হচ্ছে না। স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল পরিশোধ করা যাচ্ছে, ফলে যানবাহনের চাপ সামাল দিতে সুবিধা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এটুআইয়ের হেড অব প্রোগ্রাম ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম বলেন, এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি যানবাহন ডি-টোল সেবায় নিবন্ধিত হয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ৭ কোটি টাকার বেশি টোল লেনদেনও সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, ডি-টোল চালুর ফলে যাতায়াতে স্বস্তি বেড়েছে, যানজট কমেছে এবং বিপুল কর্মঘণ্টা সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।

ডি-টোল মূলত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তিনির্ভর একটি উন্মুক্ত ও আন্তঃসংযুক্ত টোলিং প্ল্যাটফর্ম। এতে যানবাহনের বিদ্যমান বিআরটিএ আরএফআইডি ট্যাগ ব্যবহার করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ব্যবস্থায় আলাদা কোনো ডিভাইস বা অন-বোর্ড ইউনিট কিনতে হচ্ছে না। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সেবাটি সহজ ও সাশ্রয়ী হয়েছে।

বর্তমানে পদ্মা সেতুতে পরীক্ষামূলকভাবে ধাপে ধাপে ডি-টোল চালু করা হয়েছে। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন এই সেবা ব্যবহার করছে। ঈদকে কেন্দ্র করে এর ব্যবহার আরও বেড়েছে।

ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা ও ডিজিটাল ওয়ালেটের মাধ্যমে টোল পরিশোধ করতে পারছেন।

বর্তমানে ডি-টোলের পেমেন্ট পার্টনার হিসেবে রয়েছে বিকাশ, নগদ, ট্যাপ, উপায়, সিটি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), এনসিসি ব্যাংক ও প্রাইম ব্যাংক।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পর্যায়ক্রমে আরও ব্যাংক ও ডিজিটাল ওয়ালেট এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবে।

ডি-টোলের অন্যতম লক্ষ্য হলো ওয়ান নেশন, ওয়ান টোলিং সিস্টেম বাস্তবায়ন করা। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের টোল ব্যবস্থাকে সমন্বিত, ক্যাশলেস ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে একটি অভিন্ন জাতীয় টোলিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হচ্ছে।

এর ফলে ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে ও টোল সড়কে একই আরএফআইডি এবং একই ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে টোল পরিশোধ করা যাবে।

পদ্মা সেতুতে সফল বাস্তবায়নের পর যমুনা সেতুসহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও এক্সপ্রেসওয়েতে ডি-টোল সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং অন্যান্য টোল অপারেটরদের সমন্বয়ে একটি আন্তঃসংযুক্ত জাতীয় টোলিং ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কাজ চলছে।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ