রোববার; ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; ২৫ মাঘ ১৪৩২

ইশতেহারে আইসিটি: বিএনপির লক্ষ্য পেপ্যাল, জামায়াতের ফ্রিল্যান্সার ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ইশতেহারে আইসিটি: বিএনপির লক্ষ্য পেপ্যাল, জামায়াতের ফ্রিল্যান্সার

-ইনফোটেক ইনসাইট ডেস্ক

Published : ১২:১৯, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ডিজিটাল অর্থনীতি জোরদারে পেপ্যাল, ই-কমার্স হাব ও জাতীয় লজিস্টিক প্ল্যাটফর্মের প্রতিশ্রুতি বিএনপির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ইশতেহার ঘোষণাকালে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ, বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন।

 

ইশতেহারের প্রধান অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সিস্টেম পেপ্যাল চালুর বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সংযোগ সহজ হবে বলে মনে করছে দলটি। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে ই-কমার্সের আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

 

ডিজিটাল বাণিজ্য ও রফতানি সম্প্রসারণে মেড ইন বাংলাদেশ পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ সহজ করতে প্রযুক্তিনির্ভর লজিস্টিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইশতেহারে। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ যাত্রী ও লজিস্টিক হাবে উন্নীত করার পাশাপাশি একীভূত কার্গো ট্র্যাকিং, বুকিং ও রুট পরিকল্পনার জন্য জাতীয় লজিস্টিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও রয়েছে ইশতেহারে। কৃষকদের ভূমির পরিমাণ কেন্দ্রীয়ভাবে ডাটাপ্রসেসিংয়ের আওতায় এনে কৃষি কার্ড-এর মাধ্যমে সব ধরনের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া কৃষকদের জন্য অ্যাপভিত্তিক ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

 

তরুণদের জন্য প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিএনপির আইসিটি অঙ্গীকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ইশতেহারে কারিগরি ও ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা সহায়তা এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল বাজারে তরুণদের যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

 

শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান এবং ডিজিটাল উপকরণ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে ইশতেহারে।

 

বিএনপির ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে, ডিজিটাল সংযোগ ও যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম এভিয়েশন হাবে রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় জাতীয় এয়ার কানেকটিভিটি গ্রিড গড়ে তোলা এবং বিভাগীয় ও পর্যায়ক্রমে জেলা শহরগুলোকে সংযুক্ত করতে ছোট বিমানবন্দর ও এয়ারস্ট্রিপ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

দলটির মতে, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

 

জামায়াতের ইশতেহার: পাঁচ বছরে ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার ও ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরির অঙ্গীকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ১৫ লাখ সফল ফ্রিল্যান্সার ও ৫ লাখ নতুন উদ্যোক্তা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রত্যেক উপজেলায় ই-ওয়ার্ক হাব ও ইউথ টেক ল্যাব স্থাপন, আন্তর্জাতিকমানের প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ তৈরির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

 

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে এবং প্রশাসনের সব স্তরে সেবা ডিজিটালাইজ করে সরাসরি যোগাযোগ ও তদবির বন্ধ করা হবে।

 

ইশতেহারে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণ-তরুণীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), আইওটি, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি ও গ্রিন টেকনোলজিসহ আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রথমেই চাকরি নয়, প্রথমেই উদ্যোক্তা- এই নীতির আলোকে উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পাঁচ বছরে ৫০ লাখ চাকরির লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি শিক্ষিত বেকারদের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে মাসিক ১০ হাজার টাকা সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে।

 

এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা সংযোজন, সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন ও দেশীয় খেলাধুলার পৃষ্ঠপোষকতার অঙ্গীকার করা হয়েছে। সততা, ঐক্য ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে দুর্নীতি, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা তুলে ধরা হয়েছে ইশতেহারে।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ