সোমবার; ২২ জুন ২০২৬; ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

ফ্রিল্যান্সার কার্ডের উদ্বোধন, বিপিও সামিটে তরুণদের প্রতি গুরুত্ব ছবি- সংগৃহীত

ফ্রিল্যান্সার কার্ডের উদ্বোধন, বিপিও সামিটে তরুণদের প্রতি গুরুত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকে ফিরে

Published : ১২:৫৯, ২১ জুন ২০২৬

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬। শনিবার (২০ জুন) নগরের খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ আয়োজনে সরকারি-বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ, ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা অংশ নেন।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এ সামিটের আয়োজন করা হয়।

আয়োজকেরা জানান, চট্টগ্রামের তরুণ জনশক্তিকে বৈশ্বিক কর্মসংস্থান, আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। সামিটে ক্যারিয়ার এক্সপো, সেমিনার, তথ্যপ্রযুক্তি অলিম্পিয়াড ও নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ফ্রিল্যান্সার কার্ড-এর উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। সঠিক দক্ষতা ও সুযোগ পেলে তারাই ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল্লাহ আল মামুন। জেলা প্রশাসক বলেন, চট্টগ্রামের তরুণ জনশক্তি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সরকার, শিল্পখাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ তরুণদের বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত করতে সহায়ক হবে।

বাক্কোর সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম বলেন, দেশের বিপিও ও আইটিইএস খাত বর্তমানে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে এবং এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় ও তিন লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করছে বাক্কো।

বাক্কোর সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নই এ শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির প্রধান ভিত্তি। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন।

সামিটের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্কিলড ইয়ুথ: ড্রাইভিং ইনোভেশন অ্যান্ড গ্রোথ শীর্ষক সেমিনার। এতে বিপিও শিল্প, প্রযুক্তি খাত, গণমাধ্যম ও উদ্যোক্তা পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।

সেমিনারে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাক্কোর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মুসনাদ-ই-আহমদ, পরিচালক সায়মা শওকত,  রাশেদ মুজিব নোমান (কান্ট্রি ডিরেক্টর, অগমেডিক্স বাংলাদেশ), এমরাজিনা ইসলাম (প্রতিষ্ঠাতা, কাজ ৩৬০), লেখক ও সাংবাদিক রাহিতুল ইসলাম, শুভাশীষ ভৌমিক (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, এটেক অস্ট্রেলিয়া ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড) মোঃ তাজদিন হাসান (চিফ বিজনেস অফিসার, ডেইলি স্টার) এবং সাবের শাহ (প্রতিষ্ঠাতা, এডব্লিউ কমিউনিকেশন)। আলোচনায় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ফ্রিল্যান্সিং এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা শিল্পখাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা লাভের সুযোগ পান।

সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আইসিটি  জার্নালিস্ট ফোরামের (বিআইজেএফ) সভাপতি হিটলার এ. হালিম এবং টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশের (টিএমজিবি) সভাপতি মোহাম্মদ কাওছারউদ্দীন। 

সামিটের আগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনিভার্সিটি অ্যাক্টিভেশন প্রোগ্রাম, রাউন্ড টেবিল উইদ ফিউচার লিডার্স এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নীতিনির্ধারণী সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। এসব আয়োজনে বিপিও ও আইটিইএস খাতের সম্ভাবনা, দক্ষ জনবল উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

আয়োজকদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়, তরুণ জনশক্তি, ফ্রিল্যান্সার ও উদীয়মান উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সেবা ও আউটসোর্সিং কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

সামিটের প্লাটিনাম স্পন্সর ছিল ম্যাকিনো প্ল্যাটফর্মস লিমিটেড, গোল্ড স্পন্সর আর্থ নেক্সট টেকনোলজিস লিমিটেড এবং সিলভার স্পন্সর ছিল টিমোডেস্ক ও বাংলা বি২বি বি২সি ডটকম। এক্সিবিটর হিসেবে অংশ নেয় ম্যাকিনো প্ল্যাটফর্মস, আর্থ নেক্সট টেকনোলজিস, টিমোডেস্ক, ক্রিয়েটিভ আইটি ইনস্টিটিউট এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত বাক্কো বর্তমানে ৫০০টির বেশি সদস্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছে। সংগঠনটি দেশের বিপিও ও আইটিইএস শিল্পের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা রপ্তানি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করছে।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ