বৃহস্পতিবার; ০৭ মে ২০২৬; ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

দেশে ব্যান্ডউইথের সক্ষমতা বাড়লেও ব্যবহার কম ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

দেশে ব্যান্ডউইথের সক্ষমতা বাড়লেও ব্যবহার কম

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১৭:৪০, ৫ মে ২০২৬

দেশের ডিজিটাল সংযোগ ও নাগরিক সেবা আধুনিকায়নে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর পাশাপাশি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ হিসেবে স্টারলিংক ব্যবহার শুরু হয়েছে। তবে অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়লেও ব্যান্ডউইথের বড় একটি অংশ এখনো অব্যবহৃত রয়ে গেছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ৪ মে পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে, যা সম্পন্ন করতে সময় লাগবে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর।

বিমানবন্দর, স্টেশন ও ট্রেনে ইন্টারনেট

বর্তমানে দেশের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর ও ৪টি রেলস্টেশনে ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা চালু হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-রাজশাহী রুটের চারটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংক ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে যাত্রীদের জন্য উচ্চগতির সংযোগ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বাড়লেও ব্যবহার কম

দেশের আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগে বড় ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির মোট সক্ষমতা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২২০ জিবিপিএস। এরমধ্যে প্রায় ৪১০০ জিবিপিএস ব্যবহার হচ্ছে, আর বাকি ৩১২০ জিবিপিএস অব্যবহৃত রয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ইন্টারনেট চাহিদার বড় অংশ এখনও স্থলপথে প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। তুলনামূলক কম খরচে ব্যান্ডউইথ পাওয়ায় ইন্টারনেট সেবাদাতারা এই পথেই বেশি নির্ভরশীল। যদিও সরকারি আদেশ রয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট ব্যান্ডউইথের ৫০ শতাংশ বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসির হতে হবে।

সিডিএন বনাম রিয়েল ইন্টারনেট

সাবমেরিন ক্যাবল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর হয়ে রিয়েল ইন্টারনেট সরবরাহ করা হয়। অন্যদিকে ভারত থেকে আসা সংযোগ মূলত কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক (সিডিএন) নির্ভর। দেশে যদি গুগল, ফেসবুক ও আকামাই -এর মতো প্রতিষ্ঠানের ডেটা সেন্টার স্থাপন করা যায়, তাহলে ব্যান্ডউইথ ব্যবহারে স্বনির্ভরতা বাড়বে।

গ্রাম পর্যায়ে সংযোগ বিস্তার

গ্রামীণ পর্যায়ে ইন্টারনেট বিস্তারে রাষ্ট্রায়ত্ত অপারেটর টেলিটক এর আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ৪০টি নতুন বিটিএস সাইট চালু হয়েছে। পাশাপাশি জেলা পর্যায়ে ৩ হাজার ৮০২টি উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।

এজ ডেটা সেন্টার হাব হওয়ার লক্ষ্য

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ক্লাউড ফার্স্ট নীতির আওতায় দেশে ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে। এর মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি সেবাকে আরও নিরাপদ, দ্রুত ও সম্প্রসারণযোগ্য করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের মতো প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি এজ ডেটা সেন্টার হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে দেশে ইন্টারনেটের গতি ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ার পাশাপাশি নাগরিক সেবার মানও উন্নত হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্টরা।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ