আকাশ থেকেই নেটওয়ার্ক: বাংলালিংকে স্টারলিংক
Published : ১৭:৫৪, ২২ এপ্রিল ২০২৬
দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। স্যাটেলাইটভিত্তিক মোবাইল সেবা চালু করতে বাংলালিংক অংশীদারিত্ব করেছে স্টারলিংকের সঙ্গে। এর মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে ‘স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল’ সংযোগ ব্যবস্থা, যা সরাসরি মোবাইল ডিভাইসে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সুবিধা দেবে।
স্টারলিংক মোবাইল বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম এবং একমাত্র পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল নেটওয়ার্ক, যার মাধ্যমে ডাটা, ভয়েস, ভিডিও ও মেসেজিং সেবা দেওয়া সম্ভব। এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় দেশের প্রচলিত মোবাইল নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা অনেকটাই দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‘পিপল ফার্স্ট’ দর্শন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলালিংক তাদের নেটওয়ার্কে এই উন্নত স্যাটেলাইট প্রযুক্তি সংযুক্ত করছে। এর ফলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল- যেখানে সাধারণত মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত- সেসব এলাকাতেও সংযোগ পাওয়া যাবে। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চল, চরাঞ্চল, উপকূলীয় দ্বীপ এবং সাগরের অফশোর এলাকাগুলো এ সেবার আওতায় আসবে।
প্রাথমিকভাবে এসএমএস এবং ওটিটি মেসেজিং সুবিধা দিয়ে সেবা চালু হবে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে এতে ভয়েস কল এবং ডাটা সেবাও যুক্ত করা হবে। আকাশ দৃশ্যমান এমন যেকোনও স্থান থেকেই ব্যবহারকারীরা যোগাযোগ করতে পারবেন- যা জরুরি পরিস্থিতিতেও যোগাযোগ সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলালিংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়োহান বুসে বলেন, “সংযোগ মানে শুধু প্রযুক্তি নয়, মানুষের প্রয়োজনে পাশে থাকা। দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্যের কারণে কিছু এলাকা এখনো নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে। স্টারলিংকের স্যাটেলাইট কাভারেজের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর করাই আমাদের লক্ষ্য।”
স্টারলিংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেলস) স্টেফানি বেডনারেক বলেন, “বাংলালিংকের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব আমাদের জন্য গর্বের। এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো মানুষ নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ সুবিধা পাবেন।”
এই উদ্যোগটি ভিয়ন এবং স্টারলিংকের যৌথ প্রচেষ্টার অংশ। ইউক্রেন ও কাজাখস্তানে সফল বাস্তবায়নের পর বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় দেশ, যেখানে এই প্রযুক্তি চালু হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে খুব শিগগিরই দেশে স্যাটেলাইটভিত্তিক এ মোবাইল সেবা চালু হবে বলে জানা গেছে। প্রযুক্তির এই অগ্রযাত্রা দেশের ডিজিটাল সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষকে মূলধারার সঙ্গে যুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এমএএইচ














