ব্রডব্যান্ড এক্সপোতে বক্তারা:৫ বছরে ৩ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে সরকার
Published : ০১:০৮, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হয়েছে সোমবার (১৩ এপ্রিল)। আয়োজন করেছে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি। এতে সহায়তা দিচ্ছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। আর কৌশলগত অংশীদার আইএসপিএবি নিক্স।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ বলেন, আগামী পাঁচ বছরে সরকার তিনটি বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে-সর্বজনীন কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করা, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডেন্টিটি’ বাস্তবায়ন এবং ডিজিটাল ওয়ালেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি টেলিযোগাযোগ খাতে অ্যাক্টিভ শেয়ারিং বাস্তবায়নে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে উদ্দীপনামূলক কর কাঠামো জরুরি হলেও বর্তমানে তা পর্যাপ্ত নয়। তিনি ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি) খাতের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) জানান, ফিক্সড টেলিকম সার্ভিস প্রোভাইডার (এফটিএসপি) নাম পরিবর্তন করে পুনরায় ‘ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার’ নাম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) ব্যবহারের নীতিমালা পর্যালোচনা করা হবে এবং অ্যাক্টিভ শেয়ারিং বিষয়ে শিগগিরই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, আইএসপি লাইসেন্স নবায়ন ও অ্যাক্টিভ শেয়ারিং–সংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আইএসপিএবির সভাপতি মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম জানান, দেশে আইএসপি খাতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। তিনি জানান, আইএসপির বিদ্যমান নেটওয়ার্কের মাত্র ৩০ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। অ্যাক্টিভ শেয়ারিং চালু হলে অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারের হার প্রায় ১৫ শতাংশ, যা সরকারের নীতি সহায়তা পেলে আগামী পাঁচ বছরে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। ‘এক দেশ, এক রেট’ বাস্তবায়নে সারাদেশে ট্রান্সমিশন রেট সমান করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

সূচনা বক্তব্যে আইএসপিএবির মহাসচিব নাজমুল করিম ভূইঞা লাইসেন্স নবায়নসহ খাতের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) আয়োজিত এ এক্সপোর প্রতিপাদ্য ‘লিংকিং পিপল, লিংকিং ফিউচার’। এতে ব্রডব্যান্ড ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সেবা, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্কভিত্তিক পণ্য প্রদর্শন করছে। এবারের আয়োজনে রয়েছে ১০টি প্যাভিলিয়ন, ৩৫টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ২০টি স্টল।
এক্সপোর বিশেষ আকর্ষণ ‘এক্সপেরিয়েন্স জোন’, যেখানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত রোবটিকস ও আইওটি–নির্ভর প্রায় ২৫টি প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে। দর্শনার্থীরা সরাসরি এসব উদ্ভাবন দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
আয়োজকেরা আশা করছেন, এই আয়োজন দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এক্সপোটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
এমএএইচ













