শনিবার; ০৪ এপ্রিল ২০২৬; ২০ চৈত্র ১৪৩২

জ্বালানি সংকটে টেলিকম খাত ঝুঁকিতে, সেবা বিঘ্নের আশঙ্কা ছবি: এআই/ইনফোটেকইনসাইট.কম

জ্বালানি সংকটে টেলিকম খাত ঝুঁকিতে, সেবা বিঘ্নের আশঙ্কা

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১৭:১৭, ২ এপ্রিল ২০২৬

দেশে জ্বালানি সংকট দীর্ঘায়িত হলে টেলিযোগাযোগ সেবায় বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিতে পারে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)। সংস্থাটি টেলিকম অবকাঠামোর জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহ এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি আহ্বান জানিয়েছে।

এমটব বলেছে, টেলিকম নেটওয়ার্কে দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি সংকট দেখা দিলে তা দেশজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত করতে পারে এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে টেলিকম কার্যক্রমে জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেখা যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের শুরু থেকেই মোবাইল অপারেটররা সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে সরকারকে সতর্ক করে আসছে। সরকার ইতিবাচক সাড়া দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সহায়তার নির্দেশনা দিলেও, মাঠপর্যায়ে তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও দৃশ্যমান হয়নি বলে অভিযোগ এমটবের।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঝড়ের কারণে গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিদ্যুৎ বিভ্রাট বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারেও সময় লাগছে বেশি। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে টেলিকম নেটওয়ার্ক আরও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে এমটব একটি সমন্বিত সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মূল নেটওয়ার্ক স্থাপনা ও বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন (বিটিএস) সাইটে অগ্রাধিকারভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ পরিবহনের জন্য আলাদা জ্বালানি বরাদ্দ, গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম স্থাপনায় লোডশেডিং কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর দ্রুত বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা।

দেশের টেলিকম অবকাঠামোতে বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার টাওয়ার, একাধিক ডেটা সেন্টার, নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার (এনওসি) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রয়েছে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে দেশের প্রায় শতভাগ এলাকায় অন্তত সাড়ে ১৮ কোটি মানুষ টেলিযোগাযোগ সেবা পাচ্ছেন। এই বিশাল নেটওয়ার্ক সচল রাখতে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লোডশেডিং বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় টেলিকম নেটওয়ার্ক মূলত ডিজেল ও পেট্রোলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে জ্বালানি সরবরাহে যেকোনও বিঘ্ন সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে।

টেলিযোগাযোগ খাত শুধু একটি সেবা নয়, এটি দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। জরুরি যোগাযোগ, জননিরাপত্তা, সরকারি সেবা, ডিজিটাল আর্থিক লেনদেন, ই-কমার্স, করপোরেট কার্যক্রম এবং অনলাইনভিত্তিক নানা সেবার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ অপরিহার্য। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে পুরো ইন্টারনেটভিত্তিক অর্থনৈতিক কার্যক্রমেই প্রভাব পড়তে পারে।

মোবাইল অপারেটররা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে টেলিযোগাযোগ খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ