বুধবার; ০১ এপ্রিল ২০২৬; ১৭ চৈত্র ১৪৩২

বর্জ্য থেকে সম্পদ: এআইনির্ভর রিসাইক্লিংয়ে এগোচ্ছে বিপিসিএল ছবি- সংগৃহীত

বর্জ্য থেকে সম্পদ: এআইনির্ভর রিসাইক্লিংয়ে এগোচ্ছে বিপিসিএল

-ইনফোটেক ইনসাইট ডেস্ক

Published : ১৮:২৪, ৩১ মার্চ ২০২৬

দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রিসাইক্লিং বিজনেস ইউনিট (আরবিইউ) মডেলের ব্যবহার শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোকেমিকেল কোম্পানি লিমিটেড (বিপিসিএল)। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত প্লিজ প্রকল্পের আওতায় ফেনী, কক্সবাজার, রূপগঞ্জ, সিদ্ধিরগঞ্জ, বগুড়া, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় সাতটি আরবিইউ স্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এসব ইউনিটের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৬১৭ মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিক পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং কর্মসংস্থান হয়েছে ৫ হাজার ৬১৫ জনের।

রাজধানীর গুলশানের রেনেসাঁ হোটেলে সোমবার বিকেলে ডিকার্বনাইজিং বাংলাদেশস প্লাস্টিক ওয়েস্ট: ইনোভেটিভ সলিউশনস ফর দ্য সার্কুলার ইকোনমি শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিপিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খাদেম মাহমুদ ইউসুফ প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিয়ে প্লাস্টিক সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। পুনর্ব্যবহারযোগ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমেই এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের ওপর জোর দেন তিনি।

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। বিশেষ করে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় (সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট) সরকারের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএর অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিন বলেন, পুরো ব্যবস্থাপনাকে একটি সুসংগঠিত আর্থিক কাঠামোর আওতায় আনতে পারলে উদ্যোগটি আরও কার্যকর হবে। তিনি টেকসই ক্রেতা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেন।

জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা কার্যালয় (ইউএনওপিএস) বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সুধীর মুরালিধরন বিপিসিএলের এই উদ্যোগকে উদ্ভাবনী বলে উল্লেখ করে বলেন, প্রকল্পটি সারা দেশে সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ব্লকচেইন প্রযুক্তি ও এআই-চালিত ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পিইটি বর্জ্য সংগ্রহ থেকে পুনর্ব্যবহার পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় ভাঙারি সরবরাহকারীদের কেজিপ্রতি মুনাফা ২ টাকা থেকে বেড়ে ৩ টাকায় উন্নীত হয়েছে। অংশীদার প্রতিষ্ঠান সিদীপের সহায়তায় ১ হাজার ৪০৪ জন অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহককে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, ৭০ জন শিশুকে শিশু যত্নসেবা এবং ১ হাজার ৪৭৫ জনকে জীবনদক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, দূতাবাস, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ