সোমবার; ০৬ এপ্রিল ২০২৬; ২২ চৈত্র ১৪৩২

ভয়েস কলের মূল্যসীমা প্রত্যাহারের দাবি, উৎপাদনশীলতায় বাধা ছবি- সংগৃহীত

ভয়েস কলের মূল্যসীমা প্রত্যাহারের দাবি, উৎপাদনশীলতায় বাধা

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১৬:১২, ৫ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর কাওরানবাজারে অনুষ্ঠিত এক সংলাপে মোবাইলের ভয়েস কলের মূল্যসীমা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ভয়েস ফর রিফর্মটিপাপ। বক্তারা বলেন, বর্তমান মূল্যসীমা নীতির কারণে টেলিযোগাযোগ খাতে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, যা উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) কাওরান বাজারের বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এ সংলাপে টেলিকম ও ফাইন্যান্স বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিভাইস পেনিট্রেশন না বাড়লে ইন্টারনেট ব্যবহারও বাড়বে না। এতে স্বচ্ছলদের তুলনায় অস্বচ্ছল জনগোষ্ঠী পিছিয়ে পড়ছে।

সংলাপটি সঞ্চালনা করেন ভয়েস ফর রিফর্মের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর। এতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ডেপুটি ডিরেক্টর মোহাম্মাদ ফারহান আলম, ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সেক্রেটারিজ অব বাংলাদেশের সাদাত হোসেন এবং রবি আজিয়াটার চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার শাহেদ আলমসহ অন্যরা।

মাহতাব উদ্দিন আহমেদ তার উপস্থাপনায় বলেন, ২০১৮ সালে ভয়েস কলের মূল্যসীমা চালুর সময় দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ছিল প্রায় ১৮ শতাংশ, যা বর্তমানে বেড়ে ৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে স্মার্টফোন ব্যবহারের হার ২৬ শতাংশ পরিবার থেকে বেড়ে ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে গত তিন বছরে এই প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে মোবাইল ফোন উৎপাদনে সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রণোদনা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। নির্মাতারা স্মার্টফোন উৎপাদনে আগ্রহ দেখাচ্ছে না, বরং ফিচার ফোনেই সীমাবদ্ধ থাকছে, যার উৎপাদনও কমছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জানান, উন্নত দেশগুলোতে ডিভাইসের সঙ্গে বান্ডেল প্যাকেজ দেওয়ার প্রবণতা সম্প্রতি শুরু হয়েছে। তবে বাংলাদেশে ভয়েস কলের ওপর মূল্যসীমা থাকায় অপারেটররা তুলনামূলক বেশি মুনাফা করছে এবং ডেটা সেবার উন্নয়নে কম মনোযোগ দিচ্ছে।

তাঁর মতে, ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) অনুযায়ী দেশে মোট তরঙ্গ বরাদ্দ ছিল ১৩০ মেগাহার্টজ, যার ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভয়েস সেবায় ব্যবহৃত হতো। ২০২৬ সালে তা বেড়ে ৩১৫ মেগাহার্টজে পৌঁছালেও অপারেটররা এখনও ৯০০ ব্যান্ডে টুজি প্রযুক্তি ব্যবহার করে সীমিত স্পেকট্রাম কাজে লাগিয়ে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করছে।

থ্রিজি প্রযুক্তিকে ভুল সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে মাহতাব উদ্দিন বলেন, দেশব্যাপী শতভাগ ফোরজি নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে এখনও প্রায় ২০ হাজার টাওয়ার প্রয়োজন। অথচ অপারেটররা শতভাগ কাভারেজের দাবি করে আসছে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব থাকা সত্ত্বেও গ্রামীণফোনকে এসএমপি (সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার) হিসেবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ কার্যকর হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানটির বাজার শেয়ার কমার বদলে আরও বেড়েছে।

সংলাপে অংশ নেওয়া বক্তারা মনে করেন, টেলিযোগাযোগ খাতের নীতিনির্ধারণে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সংস্কার না আনলে ডিজিটাল অগ্রগতির গতি মন্থর হয়ে পড়তে পারে।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ