সোমবার; ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; ২৬ মাঘ ১৪৩২

টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন যুগের সূচনা, সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

টেলিযোগাযোগ খাতে নতুন যুগের সূচনা, সংশোধিত অধ্যাদেশ জারি

-ইনফোটেক ইনসাইট ডেস্ক

Published : ১৬:৩৮, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

টেলিযোগাযোগ খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৬ জারি করেছে। সংসদ ভেঙে যাওয়ার বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির জারি করা এই অধ্যাদেশ গেজেট প্রকাশের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে।

নতুন সংশোধনীতে প্রথমবারের মতো ওভার দ্য টপ (ওটিটি) সেবা  এবং ইন্টারমিডিয়ারি বা মধ্যম অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও এবং বিনোদনমূলক স্ট্রিমিং সেবা এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

সংশোধিত অধ্যাদেশে ওভার দ্য টপ সেবা ও ইন্টারমিডিয়ারি প্ল্যাটফর্মের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইনভিত্তিক কনটেন্ট ও সেবার ওপর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো আরও বিস্তৃত হলো।

এ ছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থার নাম থেকে নিয়ন্ত্রণ শব্দটি বাদ দিয়ে একে আরও আধুনিক ও কার্যকর কাঠামোয় রূপ দিতে রেগুলেটরি শব্দ সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশনের কমিশনার সংখ্যা বাড়িয়ে দুজন করা হয়েছে।

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে সংশোধিত আইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইন্টারনেট অব থিংসসহ উদীয়মান ও অগ্রবর্তী প্রযুক্তিকে টেলিযোগাযোগ সেবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এসব প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্ভাবন এখন থেকে আইনি কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে।

আইনে শাস্তির বিধান আরও কঠোর করা হয়েছে। দেশের সীমানার বাইরে অবস্থান করে কেউ যদি বাংলাদেশের ভেতরে সাইবার অপরাধ বা টেলিযোগাযোগ আইন লঙ্ঘন করেন, তবে সেই অপরাধ বাংলাদেশেই সংঘটিত হয়েছে ধরে নিয়ে বিচার করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এমনকি কোনও সংস্থা বা বাহিনীর সদস্য এই আইন লঙ্ঘন করলে তাদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

দুর্গম ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে শক্তিশালী সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল গঠনের কথাও বলা হয়েছে। এই তহবিলের প্রধান থাকবেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংশোধনী একদিকে যেমন প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও খাতের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করবে। পাশাপাশি কমিশনের সদস্য হিসেবে অন্তত ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নিয়োগের বাধ্যবাধকতা টেলিযোগাযোগ খাতে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশোধিত অধ্যাদেশটি দেশের টেলিযোগাযোগ ও ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ