সহযোগী প্রতিষ্ঠান একীভূত করার পরিকল্পনায় এগোচ্ছে ওয়ালটন
Published : ১১:৩০, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
তালিকাভুক্ত ইলেকট্রনিকস ও গৃহস্থালি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানায়, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রস্তাবিত একীভূতকরণ নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়।
একীভূতকরণ কার্যকর করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং উভয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ জানায়, একীভূত হওয়ার পরও প্রতিষ্ঠানটির স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড পরিচয় বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় চুক্তি সম্পাদন করা হবে।
ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ একটি বাংলাদেশি তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ৮ বছরের বেশি সময় ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করা এই প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ হাই-টেক আইটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) তালিকা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি ৩৬টি নিজস্ব ব্র্যান্ডের অধীনে বিভিন্ন খাতে ১২৩টির বেশি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের পরিশোধিত মূলধন ছিল ৩০ কোটি টাকা। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব দাঁড়ায় ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা এবং কর পরবর্তী নিট মুনাফা হয় ১৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা।
অন্যদিকে ২০২০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব এবং ১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করে। কোম্পানিটি জানায়, একীভূতকরণের শর্ত ও বিধান চূড়ান্ত চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে এবং একীভূতকরণ পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।
ওয়ালটনের দাবি, এই একীভূতকরণের ফলে উল্লম্ব সমন্বয়ের মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক পরিসর আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে ল্যাপটপ, ডেস্কটপ পিসি, প্রিন্টার, মোবাইল ফোন, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড (পিসিবি), আইটি আনুষঙ্গিক পণ্য ও ইলেকট্রিক বাইকের মতো পণ্যের উৎপাদন ও বাজার সম্প্রসারণ সম্ভব হবে।
এদিকে, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ছয় মাসের (অর্ধবার্ষিক) আর্থিক ফলাফলও প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, ত্রৈমাসিক হিসেবে পারফরমেন্সে মিশ্র চিত্র থাকলেও সামগ্রিকভাবে মুনাফা বেড়েছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর–ডিসেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দাঁড়ায় ৪ টাকা ২৭ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৪ টাকা ৬৬ পয়সা। তবে জুলাই-ডিসেম্বর ছয় মাসে ইপিএস বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৯০ পয়সা, আগের বছর যা ছিল ৯ টাকা ১৪ পয়সা।
ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ১৯ টাকা ৪১ পয়সায় পৌঁছেছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৬ টাকা ৩০ পয়সা।
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুনর্মূল্যায়ন ছাড়া শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৫৭ টাকা ২৪ পয়সা, যা গত বছরের ৩০ জুনে ছিল ২৬২ টাকা ৮ পয়সা।
কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিক্রয় আয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা এবং মজুত ব্যবস্থাপনায় উন্নতির কারণে অর্ধবার্ষিক মুনাফা বেড়েছে। এ ছাড়া গ্রাহকদের কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায় এবং সরবরাহকারীদের পরিশোধ কম থাকায় নগদ প্রবাহ বেড়েছে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ সময়ে বেতন ব্যয় বৃদ্ধি এবং ফ্রিজ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্রের ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) হার বাড়ানোর ফলে ভ্যাট ব্যয়ও বেড়েছে।
এমএএইচ













