সোমবার; ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; ২৬ মাঘ ১৪৩২

এক সিমে ভয়েস-ডেটা-বিনোদন: বিটিসিএলের ট্রিপল প্লে সেবা ছবি- সংগৃহীত

এক সিমে ভয়েস-ডেটা-বিনোদন: বিটিসিএলের ট্রিপল প্লে সেবা

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১৭:০০, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো। প্রথমবারের মতো মোবাইল ভার্চুয়াল নেটওয়ার্ক অপারেটর (এমভিএনও) মডেলের আওতায় আনলিমিটেড ট্রিপল প্লে সেবার পাইলট কার্যক্রম চালু করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই প্রতিষ্ঠান।

রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রমনা বিটিসিএল কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সেবার পাইলট কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল জীবনকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সমন্বিত করার লক্ষ্যেই বিটিসিএল এমভিএনও সিম ও ট্রিপল প্লে সেবার পাইলট চালু করা হয়েছে। এটি একটি কনভার্জড ডিজিটাল উদ্যোগ, যেখানে ভয়েস, ডেটা ও এন্টারটেইনমেন্ট- এই তিনটি সেবা এক প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিটিসিএল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান, যার রয়েছে প্রায় সব ধরনের টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স ও দেশব্যাপী বিস্তৃত ফাইবার নেটওয়ার্ক। এই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিটিসিএলকে নতুনভাবে রিব্র্যান্ড করে একটি আধুনিক ডিজিটাল সার্ভিস প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশেষ সহকারী আরও বলেন, ট্রিপল প্লে ধারণার মূল লক্ষ্য হলো- একটি সিম ও একটি সংযোগের মাধ্যমে ঘরে ও বাইরে নির্বিঘ্ন ডিজিটাল অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা। ব্যবহারকারী ঘরে থাকলে ওয়াইফাই এবং বাইরে থাকলে মোবাইল ডেটার মাধ্যমে একই সেবা ব্যবহার করতে পারবেন।

তিনি জানান, এমভিএনও সিম, আলাপ অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং সেবা, জিপন ব্রডব্যান্ড এবং ওটিটি কনটেন্টের সমন্বয়ে এই পাইলট প্রকল্প ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পুরো সিস্টেমটি বিটিসিএলের নিজস্ব প্রকৌশলীদের মাধ্যমে উন্নয়ন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এমভিএনও ও ট্রিপল প্লে সেবা নিয়ে পরিচালিত গ্রাহক জরিপের তথ্য তুলে ধরে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, জরিপে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ মোবাইল ও ব্রডব্যান্ডের যৌথ প্যাকেজকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন। এই উদ্যোগ বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়াবে, সেবার মান উন্নত করবে এবং ওটিটি কনটেন্ট পাইরেসি কমাতে সহায়ক হবে।

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের পরপরই রমনা ও গুলশান এলাকা থেকে বাণিজ্যিকভাবে এই সেবা চালু করা হবে। ভবিষ্যতে ডিভাইস সংযুক্ত কোয়াড-প্লে সেবা এবং সারাদেশব্যাপী ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

উল্লেখ্য, এমভিএনও মডেলে নিজস্ব মোবাইল নেটওয়ার্ক অবকাঠামো ছাড়াই মোবাইল সেবা প্রদান করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বিটিসিএল, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই সেবা চালু করেছে।

এই সেবার আওতায় গ্রাহকরা আনলিমিটেড ভয়েস কল ও আনলিমিটেড ইন্টারনেট সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি আলাপ অ্যাপভিত্তিক আইপি কলিং, জিপন কানেকশন ও রাউটারসহ আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড এবং জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফির কনটেন্টও যুক্ত থাকবে। ভবিষ্যতে এসব সেবা একীভূত করে কোয়াড-প্লে সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আব্দুন নাসের খান, বিটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ, টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ