সোমবার; ১৬ মার্চ ২০২৬; ১ চৈত্র ১৪৩২

মোবাইল ফোন বিক্রিতে বড় পতন, বাজারে মন্দা ছবি- সংগৃহীত

মোবাইল ফোন বিক্রিতে বড় পতন, বাজারে মন্দা

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১৬:৫২, ১৫ মার্চ ২০২৬

দেশের মোবাইল ফোনের বাজারে অস্বাভাবিক মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিক্রেতারা বিভিন্ন ধরনের অফার, উপহার ও মূল্যছাড় দিয়েও বাজারে চাঙ্গাভাব আনতে পারছেন না। ফলে ঈদের আগে কিংবা চাঁদ রাতেও বিক্রি বাড়বে- এমন আশাবাদ খুব একটা দেখছেন না ব্যবসায়ীরা।

সাধারণত রমজান মাসের শুরুতে মোবাইল ফোনের বিক্রি কিছুটা কমে যায়। ধীরে ধীরে তা কমতে কমতে একসময় তলানিতে পৌঁছায়। এরপর ২০ রোজার পর থেকে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। বিশেষ করে ঈদের আগের শেষ সপ্তাহে মোবাইল ফোনের বাজার বেশ জমে ওঠে এবং চাঁদ রাত পর্যন্ত দেদার বিক্রি হয়। গত কয়েক বছর ধরে বাজারে এমন প্রবণতাই দেখা গেছে।

তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। রোজার মাঝামাঝি সময় পার হলেও বাজারে চাহিদা বাড়ার কোনও লক্ষণ নেই। মোবাইল ফোনের উৎপাদক, আমদানিকারক ও খুচরা বিক্রেতাদের অনেকেই মনে করছেন, বাকি সময়েও বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম।

ব্যবসায়ীদের মতে, ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া, অনিশ্চয়তার কারণে মানুষ টাকা জমিয়ে রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়া এবং মোবাইল ফোনের দাম বেড়ে যাওয়াই বাজারে মন্দাভাবের প্রধান কারণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইলফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, জাকারিয়া শহীদ বলেন, বর্তমানে মোবাইল ফোনের বাজার খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। বিক্রি বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

তিনি বলেন, সাধারণত ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে থেকে বাজার জমতে শুরু করে এবং চাঁদরাত পর্যন্ত বিক্রি ভালো থাকে। কিন্তু এবার সে ধরনের কোনো চিত্র দেখা যাচ্ছে না; বিক্রি কোনোভাবেই বাড়ছে না।

জাকারিয়া শহীদ জানান, সাধারণত ২০ রোজার পর থেকেই বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়ে এবং বিক্রিও বাড়তে থাকে। কিন্তু এবার এখনো পর্যন্ত তেমন কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

তার মতে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াই এর একটি বড় কারণ। পাশাপাশি যাদের কেনার সামর্থ্য রয়েছে, তারাও এখন খরচ করতে দ্বিধা করছেন। কারণ বাজারে এখনো এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক কাজ করছে। এই পরিস্থিতি কাটতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও তিনি মনে করেন।

রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের একটি পরিচিত ব্র্যান্ডের মোবাইল শপের এক বিক্রয়কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি মোবাইল ফোন বিক্রি হতো, এখন দিনে ১৫-১৭টি বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোনও কোনও দিন বিক্রি নেমে আসে ৭-৮টি সেটে। তার ভাষায়, মার্কেটের প্রায় সব দোকানেরই একই অবস্থা।

একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে পাশের আরেকটি দোকান থেকেও। একটি নামি মোবাইল ব্র্যান্ডের দোকানের এক বিক্রয়কর্মী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে অনেকেই আগেভাগেই ঢাকা ছাড়বেন। ফলে চাঁদ রাতেও মোবাইল মার্কেটে তেমন ভিড় বা বিক্রি হবে না বলে ধারণা করছেন তারা।

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকার মোবাইল মার্কেট ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। দোকানে ক্রেতা আসছেন, তবে বিক্রি হচ্ছে খুব কম। বিক্রেতাদের ভাষ্য, অনেকেই দোকানে এসে বিভিন্ন মডেলের ফোন দেখেন, দাম শুনে আবার চলে যান।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত এক বছরে ডলারের দাম বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় বাড়া এবং বিভিন্ন কর-শুল্কের প্রভাব পড়েছে মোবাইল ফোনের দামে। এছাড়া কিছুদিন ধরে মোবাইল চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় ফোন সেটেরও দাম বেড়েছে। ফলে অনেক জনপ্রিয় মডেলের দাম কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এতে মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের একটি বড় অংশ আপাতত নতুন ফোন কেনা থেকে বিরত থাকছেন।

এ ছাড়া বাজারে আগের মতো ঘন ঘন নতুন মডেল আসছে না এবং অনেক ব্যবহারকারী এখন তুলনামূলক দীর্ঘ সময় একই ফোন ব্যবহার করছেন। এসব কারণও বিক্রি কমে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ