এআই-নেটিভ দেশ গড়ার অঙ্গীকারে যাত্রা শুরু মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের
Published : ১৫:৫২, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকায় ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স ২০২৬’-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশ। লক্ষ্য- বাংলাদেশ কি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বৈশ্বিক দৌড়ে পিছিয়ে পড়বে, নাকি এআই ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা ১০ গুণ বাড়িয়ে নেবে- এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা এবং দেশের ১০ লাখ নাগরিককে ‘এআই-নেটিভ’ হিসেবে গড়ে তোলা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজধানীর ড্যাফোডিল প্লাজায় অনুষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল এআই বিল্ড-এ-থন। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) মিলনায়তনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স ২০২৬’। মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের আয়োজনে সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, গবেষক ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা একত্রে বাংলাদেশের এআই ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।
সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী। তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়নের বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনই মূল শক্তি, বিশেষ করে কৃষিখাতে এআই ব্যবহারের ওপর জোর দেন। ইউএপির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান এআইকে মানুষের বিকল্প নয়, বরং সহায়ক টুল হিসেবে বর্ণনা করে শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। সেশনটি সঞ্চালনা করেন মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের ফাউন্ডিং কাউন্সিল সদস্য আনিস রহমান।
প্রথম অধিবেশনে ‘বাংলাদেশের এআই-এর বর্তমান অবস্থা’ নিয়ে আলোচনা করেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারি। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক কানেক্টিভিটিই ডিজিটাল অবকাঠামোর প্রাণ। প্রাভা হেলথের প্রতিষ্ঠাতা সিলভানা কাদের সিনহা এআইকে শুধু অটোমেশনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানুষের জীবনে বাস্তব প্রভাব তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দ্বিতীয় অধিবেশনে সমাজ ও অর্থনীতিতে এআই-এর প্রভাব নিয়ে কথা বলেন মিলিয়ন এক্স বাংলাদেশের ফাউন্ডিং কাউন্সিল সদস্য মোহাম্মদ মাহাদী-উজ-জামান, স্কয়ার টয়লেট্রিজের সিইও মালিক মোহাম্মদ সাঈদসহ অন্যান্য বক্তারা। তারা বলেন, এআই মানুষের বিচারবুদ্ধির বিকল্প নয়, তবে এআই ব্যবহার জানা মানুষই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।
দক্ষ জনশক্তি ও এআই ইকোসিস্টেম গঠনে তৃতীয় অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শেষ পর্বে ‘বাংলাদেশ এআই অ্যাকশন চার্টার’ প্রণয়নের ঘোষণা দেন ড. জুনায়েদ কাজী। তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে নীতিমালা প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তব প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দেশব্যাপী বিস্তারের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
দিনশেষে সম্মিলিত অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ‘জেনেসিস এআই কনফারেন্স ২০২৬’।
এমএএইচ













