বৃহস্পতিবার; ১৫ জানুয়ারি ২০২৬; ১ মাঘ ১৪৩২

ইন্টারনেট ভোগ্যপণ্য নয়, সামাজিক পণ্য- কর সংস্কারের দাবি ছবি- সংগৃহীত

ইন্টারনেট ভোগ্যপণ্য নয়, সামাজিক পণ্য- কর সংস্কারের দাবি

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১৮:৩৪, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

দেশের টেলিকম খাতকে ভোগ্যপণ্য নয়, সামাজিক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রযুক্তিবিদ ফাহিম মাশরুর। তিনি বলেন, ডাটা ও স্মার্টফোনের ওপর অতিরিক্ত করকাঠামো টেলিকম শিল্পের বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভয়েস ফর রিফর্ম ও টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিপাপ)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত আইসিটি ও টেলিকম খাতের সংস্কারনামা গোলটেবিল আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়ব বলেন, মোবাইল ফোনের দাম গ্রাহকের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে মোবাইল ফোন আমদানিতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে সরকার। গতকাল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এনবিআরের হিসাবে, শুল্ক কমানোর ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের আমদানি হওয়া প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক সাড়ে ৫ হাজার টাকা কমবে। আর ৩০ হাজার টাকার কম দামের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক দেড় হাজার টাকা কমবে।

ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব বলেন, ৩০ হাজার টাকার নিচে মোবাইল ফোনেগুলোর অধিকাংশই দেশেই উৎপাদন হয়। যারা আন্দোলন  করছেন তারা ৩০ হাজারের বেশি বিদেশ থেকে ফোন ক্যারিয়ার ও কন্টাক্টের মাধ্যমে নিয়ে আসেন। তাদের চাপ কমানোর জন্যই শুল্ক ৬০ শতাংশ কমানো হয়েছে। আন্দোলনকারীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব বলেন, ব্যবসায়ীদের স্টকে থাকা মোবাইল ফোনেগুলোকে বৈধ করা হয়েছে, আগামী তিন মাস কোনো মোবাইল ফোনে ব্লক হবে না।

ফাহিম মাশরুর বলেন, প্রতি ১০০ টাকার টকটাইমে প্রায় ৫৫ টাকা সরকার পায় এবং ডাটার ওপর এখনও ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক রয়েছে, যা ইন্টারনেটকে কার্যত ভোগ্যপণ্য হিসেবে দেখানোর শামিল। তিনি স্মার্টফোন আমদানিতে প্রায় ৪০ শতাংশ ট্যাক্স ইনসিডেন্সকে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রতিবন্ধক বলে উল্লেখ করেন।

সাইবার অপরাধ ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি এনইআইআর বাস্তবায়নকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ডিভাইস ও সিমের ট্রেসেবিলিটি নিশ্চিত না হলে ভুয়া সিম ও ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্টের অপব্যবহার বন্ধ করা কঠিন হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার সুরক্ষা প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে নাগরিক সমাজের প্রায় ৯০ শতাংশ উদ্বেগ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের মালিকানা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত দাবি সম্প্রতি পাস হওয়া বিডিপিওতে (ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন) যুক্ত হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফাহিম মাশরুর বলেন, অনলাইন জুয়া ও সাইবার ক্রাইম আমাদের প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ভুয়া সিম ব্যবহার করে ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট তৈরি হচ্ছে। ডিজিটাল ডিভাইসকে ব্যবহার করছে, কোথা থেকে এবং কী উদ্দেশ্যে- এই ট্রেসেবিলিটি না থাকলে এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন।

এ প্রসঙ্গে তিনি ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) বাস্তবায়নকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও এনইআইআর ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবস্থাপনাকে একটি সিস্টেমের আওতায় আনবে, যা সাইবার অপরাধ দমনে সহায়ক হবে।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ইকবাল আহমেদ, টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, আইসিটি বিভাগের শ্বেতপত্র প্রকাশ টাস্কফোর্সের প্রধান অধ্যাপক নিয়াজ আসাদুল্লাহ, বাক্কো সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম প্রমুখ।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ