এনইআইআর চালুতে শৃঙ্খলা ফিরবে বাজারে, বাড়বে বিনিয়োগ রাজস্ব:এমওআইবি
Published : ১৫:৪০, ৬ জানুয়ারি ২০২৬
সম্প্রতি চালু হওয়া ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেনটিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) ব্যবস্থার ফলে মোবাইলফোন ব্যবহারকারী ও গ্রাহকের তথ্য আরও নিরাপদ হবে এবং দেশে বৈধ ও সুশৃঙ্খল বাজারব্যবস্থা গড়ে উঠবে বলে মনে করছে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টার কন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘এনইআইআর-এর হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবির নেতারা বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের ফলে অবৈধ, নকল ও চুরি হওয়া মোবাইলফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। এতে ফোন ক্লোনিং, প্রতারণাসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমবে এবং ভোক্তা সুরক্ষা জোরদার হবে।
সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবির সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, এনইআইআর দেশের মোবাইলফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। এতে অবৈধ ফোনের দৌরাত্ম্য কমবে এবং বৈধ ব্যবসা টিকে থাকার পরিবেশ তৈরি হবে।
এমআইওবির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও স্মার্ট টেকনোলজিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, উদ্যোক্তারা চান সাধারণ মানুষ কম দামে মোবাইলফোন কিনুক। এনইআইআর বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জানান, দেশে ১২ হাজার ৯৫২টি অনুমোদিত স্মার্টফোন বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ৪ হাজার ২৭০টি গ্রামাঞ্চলে। তবে আন–অফিশিয়াল ও রিফারবিশডসহ অবৈধ ফোনের বাজারের কারণে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। এনইআইআর কার্যকর হলে শহর থেকে গ্রাম—সব পর্যায়ের ভোক্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে তিনি বলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, আনঅফিশিয়াল ফোন বিক্রির সঙ্গে ২০ হাজার দোকান বা ব্যবসায়ী জড়িত- এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়; প্রকৃত সংখ্যা দেড় হাজারের বেশি নয়। আন্দোলনের নামে শিশুদের ব্যবহার ভবিষ্যতের জন্য ভালো নজির নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এমআইওবি জানায়, সরকারের স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী। তবে এনইআইআরবিরোধী আন্দোলনের নামে সহিংসতার কারণে বিভিন্ন স্থানে বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ এবং কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ হয়েছে। এই খাতে সরাসরি ৫০ হাজার এবং পরোক্ষভাবে আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক।
এমআইওবির দাবি, আনঅফিশিয়াল ফোনের কারণে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। এনইআইআর কার্যকর হলে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারের রাজস্ব আয় তিন হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে এবং রপ্তানি দাঁড়াতে পারে ৩০০ কোটি টাকায়। সব মিলিয়ে দেশের স্মার্টফোন খাতের বাজার উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অবৈধ ব্যবসায়ীদের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরে এমআইওবি নেতারা বলেন, অবৈধ ফোনের মাধ্যমে ডাটা পাচারের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে একটি ভয়েস কল রেকর্ডও উপস্থাপন করা হয়।
এমএএইচ















