বুধবার; ০৭ জানুয়ারি ২০২৬; ২৪ পৌষ ১৪৩২

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন ছবি- সংগৃহীত

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন

-ইনফোটেক ইনসাইট ডেস্ক

Published : ১১:৫৪, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উদ্ভাবন অর্থনীতির পথে এগিয়ে নিতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তিতে গবেষণার জাতীয় কেন্দ্র। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি গবেষণায় বাংলাদেশ একটি নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় সিলিকন রিভার ইকোসিস্টেমের আওতায়। এ উদ্যোগের লক্ষ্য বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকস এই চারটি খাতকে সমন্বিত করে একটি জাতীয় উদ্ভাবন কাঠামো গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফরহাত আনোয়ার বলেন, আধুনিক গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক মানবসম্পদ গঠনে বিশ্ববিদ্যালয়টির অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে জাতীয় অগ্রাধিকারের কেন্দ্রে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, গবেষণানির্ভর প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তির মতো কৌশলগত খাতে বিনিয়োগ ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সমিতির সভাপতি এবং নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল জব্বার। তিনি বলেন, দেশীয় সক্ষমতা উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের সমন্বয় এবং রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তুলতে এ ধরনের গবেষণা কেন্দ্র অপরিহার্য। নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেড এই গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান শিল্প সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছে।

গবেষণা কেন্দ্রটির লক্ষ্য উন্নত সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করা। এর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চিপ নকশা, বৃহৎ পরিসরের সমন্বিত বর্তনী ব্যবস্থা, রোবোটিকস, উপকরণ বিজ্ঞান, প্যাকেজিং ও পরীক্ষণ প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ হার্ডওয়্যার প্ল্যাটফর্ম। বক্তারা বলেন, গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জন ছাড়া বাংলাদেশ প্রযুক্তির ভোক্তা অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে উদ্ভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মাহবুব রাশেদ। তিনি বলেন, সমন্বিত জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি, শক্তিশালী বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সংযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ বিনিয়োগ ছাড়া এই খাতে অগ্রগতি সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো গবেষণা ফেলোশিপ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এর আওতায় আটজন স্নাতকোত্তর এবং দুইজন স্নাতক শিক্ষার্থী এক বছরব্যাপী উন্নত সেমিকন্ডাক্টর গবেষণায় অংশ নেবেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই ফেলোশিপে নির্বাচিত হয়েছেন, যা একটি জাতীয় ও বহুবিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এছাড়া অনুষ্ঠানে বিয়ার সামিট প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে প্রত্যেক বিজয়ী ব্যক্তি বা দলকে আর্থিক সম্মাননা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশে একটি জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর ভার্চুয়াল হাব গড়ে তোলা হচ্ছে, যার নেতৃত্ব দেবে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কাঠামোবদ্ধ জনবল উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকার কথা জানানো হয়।

অনুষ্ঠানের শেষে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে উদ্ভাবনের সুরক্ষা শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বক্তারা সেমিকন্ডাক্টর খাতে উদ্ভাবনের মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় শিল্পখাত, বিশ্ববিদ্যালয় এবং সরকারের যৌথ উদ্যোগে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে বক্তারা বলেন, এই গবেষণা কেন্দ্র শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়; এটি উদ্ভাবন, স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক প্রাসঙ্গিকতার প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় অঙ্গীকারের প্রতীক। গবেষণাকে জাতীয় কৌশলের কেন্দ্রে রেখে তরুণদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতৃত্বের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ