বুধবার; ০৭ জানুয়ারি ২০২৬; ২৪ পৌষ ১৪৩২

এনইআইআর চালুর পরে দেখা গেলো নকল মোবাইলের ভয়াবহ বিস্তার ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

এনইআইআর চালুর পরে দেখা গেলো নকল মোবাইলের ভয়াবহ বিস্তার

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১৫:১৩, ৩ জানুয়ারি ২০২৬

মোবাইল ফোন সেট নিবন্ধন ব্যবস্থা (এইআইআর) চালুর পর দেশে নকল ও ক্লোন মোবাইল ফোনের ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। আইসিটি বিভাগ সূত্রে তথ্য জানা গেছে, বর্তমানে মোবাইল নেটওয়ার্কে লাখ লাখ ভুয়া আন্তর্জাতিক মোবাইল যন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর (আইএমইআই) সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ একই ধরনের নম্বর, যেমন সবগুলো অঙ্ক এক হওয়া বা শূন্য দিয়ে গঠিত নম্বর। তবে জনজীবনে হঠাৎ অচলাবস্থা এড়াতে এসব নম্বর এখনই বন্ধ করা হচ্ছে না; বরং গ্রে হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) আইসিটি বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিম্নমানের নকল মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, যেগুলোর কোনও রেডিয়েশন পরীক্ষা বা নির্দিষ্ট শোষণ হার সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা কখনও করা হয়নি। চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কেই এসব ফোন সক্রিয় রয়েছে এবং সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত ১০ বছরে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একটি মাত্র শনাক্তকরণ নম্বরের বিপরীতে কয়েক কোটি সংযোগ ব্যবহারের নজির রয়েছে। এসবের মধ্যে স্মার্টফোনের পাশাপাশি ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্রও (আইওটি ডিভাইস) থাকতে পারে। অপারেটররা বর্তমানে মোবাইল, সিম-সংযুক্ত যন্ত্র ও অন্যান্য সংযুক্ত যন্ত্র আলাদা করে শনাক্ত করতে পারছেন না। তবে সরকার বৈধভাবে আমদানি করা ইন্টারনেট-সংযুক্ত যন্ত্র আলাদাভাবে চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১০ বছরের সর্বমোট সংখ্যা হিসেবে শুধু একটি আইএমইআই নম্বরে (৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯) পাওয়া গেছে ৩ কোটি ৯১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪টি ডিভাইস। স্মার্টফোনের পাশাপাশি এ ধরনের আইএমইআই বিভিন্ন আইওটি ডিভাইসেরও হতে পারে। যদিও অপারেটর মোবাইল ডিভাইস, সিম সংযুক্ত ডিভাইস এবং আইওটি ডিভাইসের আইএমইআই আলাদা করতে পারে না। শীর্ষ কিছু আইএমইআই নম্বরের একটা তালিকা তৈরি করে দেখা যাচ্ছে সাড়ে ১৯ লাখ ডিভাইসের আইএমইআই নম্বর হচ্ছে ৪৪০০১৫২০২০০০; যেগুলো ডুপ্লিকেট হিসাবে আনা হয়েছে। এভাবে ৩৫২২৭৩০১৭৩৩৮৬৩৪ নম্বরে সাড়ে ১৭ লাখ, ৩৫২৭৫১০১৯৫২৩২৬ নম্বরে সোয়া ১৫ লাখ। আর শুধু ১ ডিজিটের শূন্য নম্বরে আছে ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৩১টি ডিভাইস।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অনিবন্ধিত ও পুনঃপ্রোগ্রাম করা ফোন ব্যবহারের ফলে আর্থিক ও ডিজিটাল অপরাধের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অধিকাংশ ডিজিটাল জালিয়াতি ঘটে অনিবন্ধিত ডিভাইসে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যেও একই চিত্র উঠে এসেছে।

দেশে নতুন ফোনের নামে এভাবে নকল ও ক্লোন ডিভাইস বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার ঘটনা নজিরবিহীন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। জনস্বার্থ রক্ষায় এই চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ