শুক্রবার; ০৯ জানুয়ারি ২০২৬; ২৬ পৌষ ১৪৩২

নতুন প্রজন্মের টুডি চিপে ভবিষ্যতের হাতছানি ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

নতুন প্রজন্মের টুডি চিপে ভবিষ্যতের হাতছানি

ফয়সল আবদুল্লাহ

Published : ১৮:০৫, ৮ জানুয়ারি ২০২৬

শাংহাইয়ের পুতোং নিউ এরিয়ায় ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে ভবিষ্যতের এক মাইক্রোচিপ। পাতলা উপাদানে তৈরি নতুন প্রজন্মের মাইক্রোপ্রসেসরটি অচিরেই প্রচলিত সিলিকন চিপের একচ্ছত্র আধিপত্যকে জানাতে পারে চ্যালেঞ্জ।

চীন ইতোমধ্যে চিপটির প্রথম প্রকৌশল-স্তরের ডেমনেস্ট্রেশন উৎপাদন লাইন চালু করেছে। আগামী জুনে পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এর।

দশকের পর দশক কম্পিউটার শিল্প ট্রানজিস্টর তৈরিতে নির্ভর করতে হচ্ছে সিলিকনের ওপর। চিপ যত ছোট হচ্ছে, এর ভৌত সীমাবদ্ধতা তত স্পষ্ট হচ্ছে। বাড়ছে শক্তির অপচয়। সেই জায়গাতেই টু-ডাইমেনশনাল বা টুডি উপাদান খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দরজা।

উচি চিপে ব্যবহৃত হয়েছে মলিবডেনাম ডিসালফাইড নামের একটি উপাদান, যা মাত্র কয়েকটি পরমাণুর সমান পুরু। পাতলা হওয়ায় এতে বিদ্যুৎ সংকেত চলাচল করে আরও দক্ষভাবে, তাপও তৈরি হয় কম।

এই চিপে একসঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৫ হাজার ৯০০টি ট্রানজিস্টর টুডি প্রযুক্তিতে যা একটি রেকর্ড। যদিও এটি আধুনিক চিপের বিলিয়ন ট্রানজিস্টরের তুলনায় ছোট, তবু আগের রেকর্ড ১১৫ ট্রানজিস্টরের তুলনায় এটি বড় অগ্রগতি।

এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে শাংহাই অ্যাটমিক টেকনোলজি। সিলিকনভিত্তিক চিপের ক্ষুদ্রায়নের গতি কমে এলেও কীভাবে কম্পিউটিং শক্তিকে এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে গবেষণা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

৩২-বিট আর্কিটেকচারে তৈরি উচি চিপ ৪২০ কোটি পর্যন্ত সংখ্যার যোগ-বিয়োগ করতে পারে এবং গিগাবাইট স্তরের ডেটা সংরক্ষণ করতে পারে। তবে এর বড় অর্জনটি হলো বেশ কম শক্তি খরচ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে যা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।

গবেষকরা জানান, জুনের মধ্যে এই চিপের ডেমনেস্ট্রেশন লাইন পুরোপুরি চালু করাই আপাতত লক্ষ্য। ২০২৭ সাল নাগাদ ২৮ ন্যানোমিটার, আর ২০২৮ সালে ৫ বা ৩ ন্যানোমিটার আকারের এমন চিপ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে চীনা গবেষকদের।

সূত্র: সিএমজি

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ