দেশের ৪৩ শতাংশ মানুষের নিজের মোবাইল ফোন নেই
Published : ১৮:১৫, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫
দেশে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৮১ জন মোবাইল ফোন ব্যবহার করলেও সবার নিজস্ব ফোন নেই। বর্তমানে দেশের মাত্র ৫৭ শতাংশ মানুষের নিজের মোবাইল ফোন আছে। অর্থাৎ ৪৩ শতাংশ মানুষের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নেই।
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) প্রয়োগ ও ব্যবহার জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে পরিচালিত এ জরিপে সারা দেশের ৬১ হাজার ৬৩২টি খানা (পরিবার) থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পাঁচ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। বিবিএস প্রতি তিন মাস পরপর এ জরিপ পরিচালনা করে।
গত প্রায় দেড় দশকে ইন্টারনেট ও স্মার্টফোনভিত্তিক সেবার প্রসার ঘটলেও ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহার এখনও তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে দেশের ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ ব্যক্তিগতভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক মানুষ এখনো ইন্টারনেট সুবিধার বাইরে রয়েছেন।
বিবিএসের সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশের মোট জনসংখ্যা ১৬ কোটি ৯৮ লাখ। সে হিসাবে বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি ৬৯ লাখ মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ৯ কোটি ৫৯ লাখ মানুষের নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে এবং ৮ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, মোবাইল ফোন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে ব্যবধান খুব বেশি নয়। পুরুষদের মধ্যে ৮১ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৭৯ শতাংশ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। তবে মালিকানার ক্ষেত্রে পার্থক্য স্পষ্ট। পুরুষদের ৬৩ শতাংশের নিজস্ব অন্তত একটি মোবাইল ফোন থাকলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৫৩ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নারীরা পিছিয়ে আছেন। পুরুষদের ৫১ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করলেও নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ৪৬ শতাংশের কিছু বেশি।
তিন বছরের ব্যবধানে মোবাইল ফোনের মালিকানা কিছুটা কমলেও ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বেড়েছে। ২০২২ সালে দেশের ৬১ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষের নিজস্ব মোবাইল ফোন ছিল, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এসে কমে ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে, একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
ব্যক্তিপর্যায়ের পাশাপাশি খানাপর্যায়েও আইসিটি ব্যবহারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে জরিপে।
৭২ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন
খানাভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, বর্তমানে দেশের ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি স্মার্টফোন রয়েছে। যেকোনও ধরনের একটি মোবাইল ফোন রয়েছে ৯৯ শতাংশ পরিবারে। অর্থাৎ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না- এমন পরিবারের সংখ্যা মাত্র ১ শতাংশের মতো।
এছাড়া ৫৬ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারে ইন্টারনেট ব্যবহার হচ্ছে। একটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্য ইন্টারনেট ব্যবহার করলেই পুরো পরিবারকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী হিসেবে গণনা করা হয়েছে। এ কারণে খানাপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার ব্যক্তিপর্যায়ের তুলনায় বেশি।
২০২২ সালে ৯৭ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবারে মোবাইল ফোন ছিল, স্মার্টফোন ছিল ৫২ দশমিক ২ শতাংশ পরিবারে এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পরিবার ছিল ৩৮ দশমিক ১ শতাংশ। অর্থাৎ তিন বছরে স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।
জরিপে আরও দেখা যায়, বর্তমানে দেশের ১৫ শতাংশ পরিবারে রেডিও ব্যবহার হচ্ছে, ৫৯ শতাংশ পরিবারে টেলিভিশন রয়েছে এবং ৯ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারে কম্পিউটার আছে। বিদ্যুৎ-সংযোগ রয়েছে ৯৯ শতাংশ পরিবারে।
গ্রাম ও শহরের তুলনামূলক চিত্রে দেখা যায়, সাধারণ মোবাইল ফোনের ব্যবহার প্রায় একই হলেও স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহারে শহর এগিয়ে। শহর এলাকায় ৮১ শতাংশ পরিবারে অন্তত একটি স্মার্টফোন রয়েছে, যেখানে গ্রামে এ হার ৬৯ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পরিবারের হার শহরে ৬৪ শতাংশ, আর গ্রামে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ।
এমএএইচ
















