‘মনের মতো’ বিজ্ঞাপনের পেছনে অ্যালগরিদমিক বাস্তবতা?
Published : ১৭:৫৩, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
ডিজিটাল দুনিয়ায় অনেক ব্যবহারকারীরই পরিচিত এক অভিজ্ঞতা ফেস করে থাকেন। ধরা যাক, আপনি কোনও একটি বিষয় মনে মনে ভাবছেন, কিন্তু কাউকে বলেননি, এমনকি সার্চও করেননি; তবু হঠাৎ ফেসবুকে সেই বিষয়-সম্পর্কিত বিজ্ঞাপন চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বিষয়টি কাকতালীয় মনে হলেও, এর পেছনে কাজ করে সুপরিকল্পিত ডেটা বিশ্লেষণ ও অ্যালগরিদমিক পূর্বাভাস।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবহারকারীর ‘মনের কথা’ সরাসরি পড়ার মতো কোনও প্রযুক্তি এখনও নেই। তবে অনলাইনে তার আচরণ, আগ্রহ ও অভ্যাস বিশ্লেষণ করে এমন একটি অনুমান তৈরি করা সম্ভব, যা অনেক সময় বিস্ময়করভাবে নির্ভুল হয়ে ওঠে।
ইন্টারনেট ব্যবহারের সময় একজন ব্যবহারকারী কোথায় ক্লিক করছেন, কোন ভিডিও কতক্ষণ দেখছেন, কোন পোস্টে থামছেন- এসব ক্ষুদ্র আচরণই অ্যালগরিদমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। এইসব ডেটার ভিত্তিতে তৈরি হয় ব্যবহারকারীর আগ্রহের একটি
প্রোফাইল। বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এই তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগতকৃত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। ফলে ব্যবহারকারী সরাসরি কিছু না খুঁজলেও, তার আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিজ্ঞাপন সামনে চলে আসে।
শুধু ব্যক্তিগত আচরণই নয়, একই ধরনের ব্যবহারকারীদের তথ্যও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যাদের বয়স, অবস্থান, আগ্রহ বা অনলাইন ব্যবহারের ধরন কাছাকাছি- তাদের একটি গোষ্ঠী হিসেবে বিশ্লেষণ করা হয়। এই গোষ্ঠীর আচরণের ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা হয়, একজন ব্যবহারকারী ভবিষ্যতে কীসে আগ্রহী হতে পারেন।
অনেক সময় ব্যবহারকারী নিজেই বুঝতে পারেন না যে তিনি কোন বিষয়ের প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছেন। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড বেশি সময় কোনও কনটেন্টে থাকা, একটি ভিডিও আংশিক দেখা বা কোনও ছবিতে দৃষ্টি স্থির রাখা- এসবই অ্যালগরিদমের কাছে মূল্যবান ডেটা হয়ে ওঠে।
কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর অবস্থান, কেনাকাটার অভ্যাস কিংবা বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহারের তথ্যও যুক্ত হয় এই বিশ্লেষণে। ফলে অনলাইনের বাইরের আচরণও বিজ্ঞাপন নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের অভিজ্ঞতা থেকে অনেকেই মনে করেন, স্মার্টফোন তাদের কথা শুনছে। তবে এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনও প্রমাণ নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, আচরণভিত্তিক বিশ্লেষণ প্রযুক্তি এতটাই উন্নত হয়েছে যে, সেটি অনেক সময় মানুষের চিন্তার সঙ্গেও মিলে যায় বলে মনে হয়।
সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি পুরোপুরি কাকতালীয় নয়। বরং ব্যবহারকারীর অজান্তে সংগৃহীত ডেটা এবং তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি পূর্বাভাসই এই ‘মনের মতো’ বিজ্ঞাপনের মূল কারণ। ডিজিটাল যুগে তাই নতুন করে প্রশ্ন ওঠে- আমরা যা বলি না, সেটিও কি এক ধরনের ডেটা? বর্তমান প্রযুক্তিগত বাস্তবতা ইঙ্গিত দেয়, আমাদের প্রতিটি অনলাইন আচরণই সেই প্রশ্নের উত্তর বহন করছে।
এমএএইচ
















