পূর্ণাঙ্গ ফাইভ-জি সেবা নির্ভর করবে শিল্পখাতের প্রস্তুতির ওপর
Published : ১৫:২৮, ৭ জুন ২০২৬
দেশে সীমিত পরিসরে ফাইভ-জি সেবা চালু থাকলেও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ফাইভজি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতের প্রস্তুতির ওপর বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ৪৪০টিরও বেশি স্থানে সীমিত পরিসরে ফাইভজি সেবা চালু রয়েছে। রাজধানীর আবাসিক এলাকা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও রেস্তোরাঁসহ প্রায় ৪০টি স্থান এবং ঢাকার বাইরে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, খুলনা ও সিলেটের ৪০০টির বেশি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ফাইভজি নেটওয়ার্কের আওতায় এসেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কোন কোন খাতে ফাইভজি প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে, তা চিহ্নিত করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম পরিকল্পনা, ট্রান্সমিশন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ বৃদ্ধি কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, বিটিসিএলের ‘ফাইভ-জি সক্ষমতার জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় দেশের ৬৪ জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলাকে ব্যাকআপ অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রায় ৭৯ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ফাইভ-জি সম্প্রসারণের জন্য ২.৩ ও ২.৬ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে স্পেকট্রাম বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিটিআরসির স্পেকট্রাম রোডম্যাপ অনুযায়ী ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রত্যন্ত অঞ্চলে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে টেলিটক দুটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৩ হাজার ৪২০টি স্থানে উচ্চগতির ফোর-জি সরঞ্জাম স্থাপন করা হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে ২ হাজার নতুন ফোরজি সাইট এবং ১ হাজার ৬০০টি ফাইভ-জি-সক্ষম সাইট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বাড়াতে সি-মি-উই-৬ সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পের কাজও এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হলে আরও ৩০ হাজার জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ যুক্ত হবে, যা দেশে ব্যাপক পরিসরে ফাইভ-জি সেবা চালুর সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ধীরে ধীরে ব্যাপকভিত্তিক ফাইভ-জি গ্রহণের ভিত্তি তৈরি করছে। তবে পূর্ণাঙ্গ ফাইভ-জি সেবায় উত্তরণ শুধু অবকাঠামো ও স্পেকট্রামের ওপর নয়, প্রযুক্তিটি ব্যবহারে শিল্প ও সেবাখাতগুলোর প্রস্তুতির ওপরও নির্ভর করবে।
সূত্র: বাসস
এমএএইচ













