বৃহস্পতিবার; ১৫ জানুয়ারি ২০২৬; ১ মাঘ ১৪৩২

র‌্যামের বাজারে আগুন: এক ভরি সোনার দামে ১২৮ জিবি ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

র‌্যামের বাজারে আগুন: এক ভরি সোনার দামে ১২৮ জিবি

হিটলার এ. হালিম

Published : ০৯:১০, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

দেশের কম্পিউটার হার্ডওয়্যার বাজারে র‌্যামের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ১২৮ জিবি র‌্যামের দাম এখন এক ভরি সোনার দামের কাছাকাছি পৌঁছেছে। গত কয়েকদিনে ফেসবুক ঘোরাঘুরি করে এ ধরনের কয়েকটি পোস্ট চোখে পড়ে। পরে বাজারে খোঁজ খবর করতে গেলে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া যায়।

রাজধানীর আগারগাঁও, মাল্টিপ্ল্যান সেন্টার ও আইডিবি ভবনসহ বিভিন্ন কম্পিউটার মার্কেটের বিক্রেতারা জানান, গত কয়েক মাসে, বিশেষ করে নভেম্বর মাস থেকে র‌্যামের দাম উচ্চহারে বেড়েছে। বর্তমানে ডিডিআর৫ ও সার্ভার গ্রেড ১২৮ জিবি র‌্যাম বিক্রি হচ্ছে অত্যন্ত উচ্চ দামে, যা আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক চিপ সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সেন্টারভিত্তিক ব্যবহারের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের প্রভাব মিলিয়ে এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি ও কর কাঠামোর চাপও দাম বাড়িয়েছে।

হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ীদের সংগঠনের এক নেতা জানান, উচ্চ দামের কারণে র‌্যামের বিক্রি কমেছে। অনেক ক্রেতাই প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও কেনাকাটা স্থগিত রাখছেন। এতে বাজারে লেনদেনের গতি কমে গেছে।

বাজার ঘুরে জানা গেলো, ৩ হাজার টাকা দামের ৮ জিবি র‌্যাম বিক্রি হচ্ছে ৮-৯ হাজার টাকায়। ৮ হাজার টাকা দামের ১৬ জিবি র‌্যাম বিক্রি হচ্ছে ২৪-২৫ হাজার টাকায়। সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বলছেন, যেসব ল্যাপটপ এলসি করা হয়েছে সেগুলো বাজারে ঢুকতে ঢুকতে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ হয়ে যাবে। ফলে আসল প্রভাবটা ওই সময়ই বোঝা যাবে। এখন বাজারে যেসব ল্যাপটপ বিক্রি হচ্ছে তার বেশির ভাগই পুরনো দামে। সবাই স্টক থেকে বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে।  

গেলো সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে দেশের প্রযুক্তি পণ্যের পণ্য ব্যবস্থাপকদের এক মিলন মেলায় কথা প্রসঙ্গে একটি সুপরিচিত ল্যাপটপ ব্র্যান্ডের একজন পণ্য ব্যবস্থাপক জানালেন, গত নভেম্বর মাসে তারা ল্যাপটপ আমদানির জন্য এলসি (ঋণপত্র) খোলেন। সে সময় প্রতি ল্যাপটপের ইউনিট মূল্য ধরা হয় ৪০০ ডলার। ডিসেম্বরে ল্যাপটপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জানায় র‌্যামের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা ৪০০ ডলারে ল্যাপটপ দিতে পারবে না। নতুন দাম নির্ধারিত হয় ৪৮৩ ডলার। সম্প্রতি ল্যাপটপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি আবারও এ দেশীয় আমদানিকারকদের জানায় ৪৮৩ ডলারেও তারা ল্যাপটপ দিতে পারবে না। ল্যাপটপের নতুন দাম হবে ৫১২ ডলার। শুধু র‌্যামের কারণেই একটি ল্যাপটপের আমদানি মূল্য বাড়বে ১১২ ডলার। তাহলে খুচরা বিক্রির সময় ল্যাপটপের দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা নিয়ে ওই পণ্য ব্যবস্থাপক শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আগামী মাসের শুরুর দিকে এসব ল্যাপটপ বাজারে প্রবেশ করবে। ফলে সে সময় ল্যাপটপের দাম হু হু করে বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসান বলেন, শিগগিরই প্রতিটা ল্যাপটপের দাম বর্তমান দামের চেয়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যাবে। এর কারণ হলো র‌্যামের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। তিনি জানান, র‌্যাম ছাড়াও এসএসডি, জিপিইউ, সিপিইউ-এর দামও বেড়ে গেছে। এসএসডির দাম এরই মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ফলে ল্যাপটপের দামে বড় ধরনের একটা ধাক্কা আসতে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, কম্পিউটারের কার্যক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ র‌্যাম। র‌্যাম হলো একটি অস্থায়ী মেমরি, যা কম্পিউটার চলাকালীন ডাটা ও প্রোগ্রাম সংরক্ষণ করে এবং কম্পিউটারের দ্রুত চলাচল নিশ্চিত করে। র‌্যাম সাধারণত সিলিকন চিপ দিয়ে তৈরি হয়। চিপের মধ্যে ট্রানজিস্টর ও ক্যাপাসিটার থাকে, যা ডাটা সাময়িকভাবে ধরে রাখে। কম্পিউটার বন্ধ হলে এই তথ্য মুছে যায়। র‌্যাম চিপগুলো পিসিবিতে বসিয়ে কন্ট্রোলারের মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে সংযুক্ত করা হয়। বিশ্বে র‌্যাম উৎপাদনে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া জাপান ও চীনও র‌্যাম উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ