দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানতে স্টার্টআপ বাংলাদেশের তহবিল বাড়ছে
Published : ১৩:১২, ১০ জুন ২০২৬
দেশের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতকে আরও শক্তিশালী করা এবং দেশি-বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’র (বিএসআইসি) তহবিল ধাপে ধাপে এক হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
জাতীয় সংসদে মঙ্গলবার (৯ জুন) এক প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া ৩৬টি প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী স্টার্টআপে প্রায় ১০৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। স্টার্টআপ বাংলাদেশের আওতায় মোট ৫৫টি উদ্যোগ অনুমোদন পেলেও যথাযথ যাচাই-বাছাই এবং বিনিয়োগ শর্ত নিয়ে মতবিরোধের কারণে ১৯টি বিভিন্ন পর্যায়ে বাদ পড়ে।
বিনিয়োগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে চালডাল, টেন মিনিট স্কুল, সেবা প্ল্যাটফর্ম, শেয়ারট্রিপ, আইফার্মার, পিকাবু, ইন্টেলিজেন্ট মেশিনস, সোয়াপ, ট্রাক লাগবে, বঙ্গো, পাঠাও এবং শিখোসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশের বিনিয়োগ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সক্ষম হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে সাত হাজারের বেশি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং গড়ে তাদের রাজস্ব ও বিক্রি পাঁচ গুণেরও বেশি বেড়েছে।
তিনি জানান, বিনিয়োগপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলো সরকারের কোষাগারে ১৮০ কোটির বেশি টাকা কর দিয়েছে, যা স্টার্টআপ বাংলাদেশের মোট বিনিয়োগের প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং নতুন দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সফল হয়েছে। বর্তমানে স্টার্টআপ বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ বিনিয়োগ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, স্টার্টআপ বাংলাদেশের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি ঋণ দেয় না। বরং সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপে ইকুইটি ও ইকুইটি-সংযুক্ত বিনিয়োগের মাধ্যমে সহায়তা করে।
স্টার্টআপ খাতে অর্থায়নের ঘাটতি দূর করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন বিশেষায়িত তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান তিনি। এর অংশ হিসেবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বিভিন্ন তহবিল এবং ৩০০ কোটি টাকার একটি কো-ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড গঠনের কাজ চলছে। অভিজ্ঞ ফান্ড ম্যানেজারদের মাধ্যমে এসব তহবিল পরিচালনা করে স্টার্টআপ অর্থায়নের পরিধি বাড়ানো হবে।
মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এসব উদ্যোগের পরিসর আরও বাড়িয়ে তহবিলের আকার ধীরে ধীরে এক হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হবে। এর ফলে দেশের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল শিল্প আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে।
এমএএইচ

















