বিশ্বের বেশি বিক্রি হওয়া মোবাইল ফোন: কেন কোটি কোটি মানুষের পছন্দ?
Published : ১৬:০৭, ১৩ জুন ২০২৬
মোবাইল ফোন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, প্রযুক্তির ইতিহাসে এটি অন্যতম প্রভাবশালী ভোক্তা পণ্য। গত তিন দশকে বিশ্বের বিভিন্ন কোম্পানি হাজারও মডেলের ফোন বাজারে আনলেও কিছু ফোন এমন জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যা বিক্রির ক্ষেত্রে ইতিহাস গড়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ফোনগুলোর তালিকায় এখনো আধিপত্য নকিয়ার ফিচার ফোনগুলোরই।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সাশ্রয়ী দাম, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, সহজ ব্যবহার এবং নির্ভরযোগ্যতার কারণে এসব ফোন কোটি কোটি মানুষের হাতে পৌঁছেছিল। অনেক দেশে প্রথমবারের মতো মোবাইল ব্যবহারের অভিজ্ঞতাও এসেছিল এসব ডিভাইসের মাধ্যমে।
১. নকিয়া ১১০০: ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ফোন
২০০৩ সালে বাজারে আসে নকিয়া ১১০০। সহজ নকশা, টেকসই গঠন এবং দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপের কারণে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে ফোনটির বিক্রি ২৫ কোটিরও বেশি ইউনিট ছাড়িয়ে যায়। শুধু মোবাইল ফোন নয়, এটি বিশ্বের অন্যতম সর্বাধিক বিক্রিত ভোক্তা প্রযুক্তিপণ্য হিসেবেও স্বীকৃত। ধুলাবালি প্রতিরোধী কি-প্যাড, বিল্ট-ইন টর্চলাইট এবং সহজ ব্যবহারযোগ্যতার কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ফোনটি ছিল ব্যাপক জনপ্রিয়।
২. নকিয়া ১১১০: সফলতার ধারাবাহিকতা
নকিয়া ১১০০-এর উত্তরসূরি হিসেবে ২০০৫ সালে বাজারে আসে নকিয়া ১১১০। এই মডেলটিও প্রায় ২৪ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়, যা একে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বাধিক বিক্রিত ফোনে পরিণত করেছে। নতুন ডিজাইন, উন্নত ডিসপ্লে এবং পরিচিত ব্যবহার অভিজ্ঞতা এর জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল।
৩. আইফোন ৬ ও ৬ প্লাস: স্মার্টফোন যুগের রাজা
ফিচার ফোনের যুগ পেরিয়ে স্মার্টফোনের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বিক্রির রেকর্ড গড়েছে অ্যাপলের আইফোন ৬ ও আইফোন ৬ প্লাস। ২০১৪ সালে উন্মোচিত এই দুটি মডেলের সম্মিলিত বিক্রি ২২ কোটির বেশি ইউনিট। বড় স্ক্রিন, উন্নত ক্যামেরা এবং শক্তিশালী পারফরম্যান্সের কারণে আইফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে ডিভাইস দুটি। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, বড় ডিসপ্লে যুক্ত আইফোনের প্রতি গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার ফল ছিল এই বিপুল বিক্রি।
৪. নকিয়া ১০৫ সিরিজ: আধুনিক যুগের ফিচার ফোনের সাফল্য
স্মার্টফোনের আধিপত্যের মধ্যেও ফিচার ফোনের বাজার পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ নকিয়া ১০৫ সিরিজ।
২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা এই সিরিজের বিভিন্ন সংস্করণ মিলিয়ে বিক্রি হয়েছে প্রায় ২০ কোটি ইউনিট। দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ, শক্তপোক্ত গঠন এবং কম দামের কারণে আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার অনেক দেশে এখনো এই ফোনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

কেন এত জনপ্রিয় হয়েছিল এসব ফোন?
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ফোনগুলোর মধ্যে কয়েকটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা যায়- সহজ ব্যবহারযোগ্যতা, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি, সাশ্রয়ী মূল্য, শক্তপোক্ত নির্মাণ, কম নেটওয়ার্ক সুবিধাতেও কার্যকর যোগাযোগ, গ্রামীণ ও উন্নয়নশীল দেশের বাজারের উপযোগিতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোনের আগে মানুষ ফোনে মূলত কথা বলা ও বার্তা আদান-প্রদানের সুবিধাই চাইত। ফলে নির্ভরযোগ্যতা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
স্মার্টফোনের যুগেও কি ফিচার ফোনের ভবিষ্যৎ আছে?
বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও ফিচার ফোনের বাজার এখনো টিকে আছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যবহারকারী, দ্বিতীয় ফোন ব্যবহারকারী এবং বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত এমন অঞ্চলে ফিচার ফোনের চাহিদা রয়েছে।
এ কারণেই নকিয়া, আইটেল, টেকনোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এখনো নতুন নতুন ফিচার ফোন বাজারে আনছে।
মোবাইল প্রযুক্তি দ্রুত বদলে গেলেও নকিয়া ১১০০, নোকিয়া ১১১০ কিংবা আইফোন ৬-এর মতো ডিভাইসগুলো প্রমাণ করেছে যে সফল প্রযুক্তিপণ্যের মূল শক্তি শুধু আধুনিক ফিচার নয়, বরং ব্যবহারকারীর বাস্তব চাহিদা পূরণ করা। কোটি কোটি মানুষের হাতে পৌঁছে যাওয়া এসব ফোন তাই প্রযুক্তির ইতিহাসে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে।
এমএএইচ















