শনিবার; ১৩ জুন ২০২৬; ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

পাহাড় থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল, বাজেটে সবার জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেটে ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

পাহাড় থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল, বাজেটে সবার জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেটে

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১৬:০৭, ১৩ জুন ২০২৬

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত করার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে এ খাতের অবদান বর্তমান ১-২ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় এসব কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

বাজেট বক্তব্যে জানানো হয়, তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, তারবিহীন ও তারযুক্ত সংযোগ সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষের কাছে ফাইভ-জি মোবাইল সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে এবং সর্বত্র ন্যূনতম ১০০ মেগাবিটস গতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট নিশ্চিত করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় ফাইবার ব্যাংক প্রতিষ্ঠাসহ দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রত্যন্ত ও পাহাড়ি এলাকাগুলোতেও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে।

বাজেট বক্তব্যে আরও জানানো হয়, গত চার মাসে ৪১ লাখ নতুন  ফোর-জি মোবাইল সংযোগ এবং ৪ লাখ নতুন উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার এক নাগরিক, এক পরিচয়, এক ডিজিটাল মানিব্যবস্থা ধারণা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি নাগরিক একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে ভাতা, ফি, কর ও অন্যান্য আর্থিক লেনদেনও একটি নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পন্ন করা যাবে। এতে তথ্য যাচাই ও সেবার আন্তঃসংযোগ আরও সহজ হবে বলে মনে করছে সরকার। 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারি সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও নগর ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগের মাধ্যমে সেবার মান ও দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের মতে, এটি স্মার্ট ও সেবাবান্ধব বাংলাদেশ গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন শিল্পকে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে উল্লেখ করে বাজেট বক্তব্যে বলা হয়, দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, অন্যদিকে রপ্তানির নতুন সুযোগও সৃষ্টি হবে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্স এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরিতে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের পাশাপাশি একটি যুগোপযোগী স্টার্টআপ নীতিমালা প্রণয়ন এবং সমন্বিত অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে।

এদিকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে উৎসাহ দিতে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অর্থ স্টার্টআপ তহবিল, নারী উদ্যোক্তা তহবিল, নারী উন্নয়ন কর্মসূচি এবং তরুণ উদ্যোক্তা তহবিলের মাধ্যমে ব্যয় করা হবে।

সরকারের প্রত্যাশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে বিশ্বমানের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে এবং দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ