সোমবার; ০১ ডিসেম্বর ২০২৫; ১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪৩২

দেশীয় প্ল্যাটফর্মে বিটিআরসির গণশুনানি, চালু হতে পারে ফাইবার ব্যাংক ছবি- সংগৃহীত

দেশীয় প্ল্যাটফর্মে বিটিআরসির গণশুনানি, চালু হতে পারে ফাইবার ব্যাংক

-ইনফোটেক ইনসাইট ডেস্ক

Published : ১২:৪০, ২৫ নভেম্বর ২০২৫

প্রথমবারের মতো পুরোপুরি দেশীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) গণশুনানি। মঙ্গলবার সকাল ১০টার পরে কনভে অ্যাপে শুরু হওয়া এ শুনানিতে অংশ নেন সাংবাদিকসহ ৭৯ জন (বিটিআরসি কর্তৃপক্ষ বাদে)।

প্রায় দেড় বছর পর আয়োজিত এ শুনানিতে তুলে ধরা হয় টেলিকম খাতের সেবার মান, গ্রাহকদের দুর্ভোগসহ নানা সমস্যার চিত্র।

কমিশনের স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আমিনুল হক শুনানি পরিচালনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের কমিশনার আবদুর রহমান সরদার ও ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শফিউল আজম পারভেজ।

শুনানিতে গ্রাহকেরা অভিযোগ করেন, মোবাইল নম্বর পোর্টাবিলিটি (এমএনপি) সুবিধা নিতে কাস্টমার কেয়ারে গেলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) রিসেলার পর্যায়ে পেশিশক্তির প্রভাব রয়েছে। ১১ মাস নিষ্ক্রিয় থাকার পর সিম বন্ধ হয়ে গেলেও গ্রাহককে আগে থেকে কোনও বার্তা দেয় না অপারেটররা। গ্রাহকের সম্মতি ছাড়াই ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভ্যাস) চালু করে টাকা কেটে নেয়ার অভিযোগও উঠে আসে।

শুনানিতে তিন মোবাইল অপারেটরের বিপুল পরিমাণ অডিট বকেয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। গ্রামীণফোনের বাজারে অসম প্রতিযোগিতা এবং টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ধীরগতির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। টেলিটকের অ্যাপে ভিওআইপি কল চালুর দাবিও জানান গ্রাহকেরা।

গ্রাহকদের পরামর্শের পরিপ্রেক্ষিতে বিটিআরসি জানায়, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মান বাড়াতে শিগগিরই একটি ফাইবার ব্যাংক এবং গ্রাহক অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির জন্য ডিজিটাল প্লাটফর্ম চালু করা হবে। মোবাইল অপারেটরদের আয় বাড়াতে ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন কর্মকর্তারা।

দেশীয় প্রতিষ্ঠান সিনেসিস আইটি উদ্ভাবিত এআই-ভিত্তিক ভার্চুয়াল মিটিং প্ল্যাটফর্ম কনভের মাধ্যমে এবারের শুনানি হয়েছে। এর আগে দ্বিতীয়বারের মতো ভার্চুয়ালি শুনানি হলেও বিদেশি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর বিটিআরসি কার্যালয়ে সরাসরূপে প্রথম গণশুনানি হয়। এরপর ২০১৯, ২০২১, ২০২২ ও ২০২৪ সালে আরও চারবার গণশুনানি আয়োজিত হয়। মঙ্গলবারেরটি ছিল ষষ্ঠ গণশুনানি।

প্রতিবারের মতো এবারও শুনানিতে অংশ নেন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, মোবাইল অপারেটর প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন, মোবাইল গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা, পেশাজীবী এবং সাধারণ গ্রাহকেরা।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ