বুধবার; ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬; ২১ মাঘ ১৪৩২

বড় অংকের এক বিনিয়োগে ঢাকা পড়লো দেশের স্টার্টআপ খাতের আসল চিত্র ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

বড় অংকের এক বিনিয়োগে ঢাকা পড়লো দেশের স্টার্টআপ খাতের আসল চিত্র

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১২:১৮, ২২ জানুয়ারি ২০২৬

২০২৫ সালে বাংলাদেশের স্টার্টআপ বা নতুন উদ্যোগের বিনিয়োগ পরিস্থিতি ওপর থেকে দেখলে ইতিবাচক মনে হতে পারে। তবে গভীর পর্যালোচনায় দেখা যায় ভিন্ন এক রূঢ় বাস্তবতা। একটি বড় অংকের বিশেষ বিনিয়োগ বাদ দিলে দেশের স্টার্টআপ খাতে প্রকৃত বিনিয়োগের পরিমাণ গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০২১ সালে দেশে স্টার্টআপ বিনিয়োগের সুবর্ণ সময় ছিল। সে বছর মোট বিনিয়োগ এসেছিল প্রায় ২৫ কোটি ডলার, যার বড় অংশই ছিল মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশে সফটব্যাংকের বড় অংকের বিনিয়োগ। এরপর বিশ্ব অর্থনীতির মন্দা এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা কমে আসায় প্রতি বছরই বিনিয়োগের পরিমাণ কমছে।

লাইটক্যাসেল পার্টনার্সের ড্যাশবোর্ড বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম: ফান্ডিং ল্যান্ডস্কেপ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোতে মোট বিনিয়োগ এসেছে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। পরিসংখ্যানের বিচারে এটি ২০২২ সালের বিনিয়োগের সমান। কিন্তু এই আপাত উত্থানের পেছনে রয়েছে একটি মাত্র বড় চুক্তি। 

 

সিল্ক গ্রুপের বড় বিনিয়োগ ও বাস্তবতা সিঙ্গাপুরভিত্তিক সিল্ক গ্রুপের ১১ কোটি ডলারের বিনিয়োগই গত বছরের মোট বিনিয়োগের সিংহভাগ। সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সারি এবং বাংলাদেশের শপআপ-এর সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্যারেন্ট কোম্পানির একীভূত হওয়ার মাধ্যমে সিল্ক গ্রুপ গঠিত হয়েছে।

পিটার থিয়েলের ভ্যালার ভেঞ্চারস এবং সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সানাবিল ইনভেস্টমেন্টস এই বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিয়েছে। তবে এই অর্থের বড় অংশই সিল্ক গ্রুপের উপসাগরীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণ এশিয়ার কার্যক্রমের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্টার্টআপ খাতের উন্নয়নে এই বিনিয়োগের প্রত্যক্ষ ভূমিকা খুবই সামান্য।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই ১১ কোটি ডলার বাদ দিলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশের স্থানীয় স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ২০১৪ সালের পর এটিই দেশে সর্বনিম্ন বিনিয়োগের রেকর্ড।

খাতভিত্তিক ও বিনিয়োগকারীর চিত্র লাইটক্যাসেল পার্টনার্সের তথ্যমতে, গত বছর সব মিলিয়ে ১২টি স্টার্টআপ বিনিয়োগের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৯টি চুক্তিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা জড়িত ছিলেন, আর দেশি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৩টিতে।

খাতওয়ারী হিসাবে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ এসেছে সফটওয়্যার, প্রযুক্তি ও এন্টারপ্রাইজ সলিউশন খাতে (৫টি)। এছাড়া জ্বালানি ও জলবায়ু খাতে ২টি, ফিনটেক বা আর্থিক খাতে ২টি, ই-কমার্স ও খুচরা ব্যবসায় ২টি এবং শিক্ষা বা এডটেক খাতে ১টি বিনিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে। মোট বিনিয়োগের ১২ কোটি ৩৩ লাখ ডলারই এসেছে বিদেশি উৎস থেকে।

উল্লেখযোগ্য কিছু বিনিয়োগ গত বছরের আলোচিত বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে:

  • মার্কেটিং অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠান মার্কোপলো: সিড রাউন্ডে দুই দফায় মোট ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে।
  • পালস টেক লিমিটেড: প্রি-সিরিজ এ রাউন্ডে ৩০ লাখ ডলার।
  • চালডাল: সিরিজ বি+ রাউন্ডে ৪৫ লাখ ডলার।
  • ক্যাসেটেক্স: সিড ফান্ডিং হিসেবে ১৬ লাখ ডলার।
  • পালকি মটরস: অনুদান হিসেবে ১০ লাখ ডলার।

স্থানীয় পর্যায়ে স্টার্টআপ বাংলাদেশ থেকে শিখো, বাংলাদেশ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল থেকে অ্যাডেফি এবং অক্সফাম বাংলাদেশ থেকে বেশি দেশি লিমিটেড বিনিয়োগ বা অনুদান পেয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সিল্ক গ্রুপের বড় অংকটি সরিয়ে নিলে দেখা যায় স্থানীয় স্টার্টআপগুলো এখনো মূলধন সংকটে ভুগছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করা এবং স্থানীয় বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনাই এখন এই খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ