সাবমেরিন ক্যাবল থেকে ডিজিটাল নিরাপত্তা- টেলিযোগাযোগ দিবসে সতর্কতা
Published : ১৬:৪১, ১৭ মে ২০২৬
বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা, ব্যাংকিং সেবা ও তথ্য আদান–প্রদানের বড় অংশ নির্ভর করছে সাবমেরিন কেবলের ওপর। এই অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগে বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি হতে পারে- এমন সতর্কবার্তা উঠে এসেছে বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবসের উদ্বোধনী আয়োজনে।
রবিবার (১৭ মে) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবসের উদ্বোধন করা হয়। প্রথমবারের মতো বিটিআরসি ভবনে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মুক্তিযোদ্ধা প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।
ভিডিও বার্তায় আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরিন বোগডান-মার্টিন বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ব্যাংকিংসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক সেবা প্রায় ১৭ লাখ কিলোমিটার সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বড় ধরনের ভূমিকম্প বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে এসব অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, ডিজিটাল ভবিষ্যৎকে নিরাপদ ও কার্যকর রাখতে আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ও ডেটা সেন্টারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিও গুরুত্ব দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) বলেন, ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে প্রযুক্তি যুদ্ধ ও সভ্যতার গতিপথ নির্ধারণ করেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে টেলিগ্রাফ, টেলিফোন ও রেডিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাডার প্রযুক্তি হয়ে ওঠে অন্যতম অনুষঙ্গ। এখনকার বিশ্বে মানুষের জীবনসংগ্রামের বড় অংশই প্রযুক্তিনির্ভর।
তিনি বলেন, প্রযুক্তি শুধু আমদানি করলেই হবে না, তা স্থানীয় বাস্তবতায় টেকসইভাবে ব্যবহার করতে হবে। উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগই প্রবৃদ্ধির নতুন পথ তৈরি করে। তরুণদের জীবনের বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধানভিত্তিক উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব কাজী আনোয়ার হোসেন ডিজিটাল রূপান্তরের ক্ষেত্রে নৈতিকতা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
দিবসটি উপলক্ষ বিটিআরসি প্রাঙ্গনে মেলা বসেছে। বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে।
এমএএইচ













