টেলিকম খাতে কর ও লাইসেন্সিং সহজ করার দাবি, লক্ষ্য ২০৩৫ সাল
Published : ১৭:৪০, ১৬ মে ২০২৬
দেশের টেলিকম খাতকে টেকসই ও বিনিয়োগবান্ধব করতে দীর্ঘমেয়াদি, পূর্বাভাসযোগ্য কর কাঠামোর ওপর জোর দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে আধুনিক তরঙ্গ নীতি, সহজ লাইসেন্সিং ও অবকাঠামো ভাগাভাগির মতো বিষয়েও দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘টেলিকম খাতের ভবিষ্যৎ: নতুন সরকার কী ভাবছে?’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, সরকার ফাইভ-জি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রামীণ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে কাজ করছে। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর এবং বিশ্বের শীর্ষ ২০ টেলিকম দেশের তালিকায় নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অপারেটরদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী বাজেটে ৫ বছরের জন্য পূর্বাভাসযোগ্য কর কাঠামো নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেন, নতুন লাইসেন্সিং ব্যবস্থায় কোনও ধরনের একচেটিয়া ব্যবসার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে সেবার মান উন্নয়ন ও জাতীয় কানেক্টিভিটি মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে।
মূল প্রবন্ধে রবির রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান সাহেদ আলম বলেন, টেলিকম এখন কেবল সংযোগের বিষয় নয়, বরং এআই ও ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি। কিন্তু দেশের নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো এখনো পিছিয়ে আছে। তিনি দীর্ঘমেয়াদি রাজস্ব কাঠামো, আধুনিক তরঙ্গ নীতি, দ্রুত অনুমোদন ও সাইবার নিরাপত্তাসহ পাঁচটি অগ্রাধিকার তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, টেলিকম খাতের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিনিয়োগবান্ধব নীতি, কর সংস্কার ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জরুরি। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
টিআরএনবি সভাপতি সমীর কুমার দে’র সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন।
এমএএইচ













