বৃহস্পতিবার; ১৪ মে ২০২৬; ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

সেমিকন্ডাক্টর খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ ছবি- সংগৃহীত

সেমিকন্ডাক্টর খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ

-ইনফোটেক ইনসাইট রিপোর্ট

Published : ১৮:০৬, ১৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ) দক্ষিণ কোরিয়ায় চলমান সেমিকন্ডাক্টর রোডশোর আরেকটি দিন শেষ করলো। আর এর মধ্যে দিয়ে শেষ হলো রোডশো। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সিলিকন রিভার ভিশনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই রোডশোর মূল লক্ষ্য উদ্ভাবন, উন্নত প্যাকেজিং, গবেষণা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে একটি টেকসই সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।

দিনের শুরুতে বিএসআইএ প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এসকে হাইনিক্সের অত্যাধুনিক সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং কারখানা পরিদর্শন করে। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুগের মেমরি প্যাকেজিং, বহুমাত্রিক সমন্বিত প্রযুক্তি এবং উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করেন প্রতিনিধিরা।

পরে প্রতিনিধিদল এসকে হাইনিক্সের প্যাকেজিং ও পরীক্ষণ বিভাগের প্রেসিডেন্ট চার্লস আন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কৌশলগত বৈঠকে অংশ নেয়।

বৈঠকে পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মোস্তফা হোসেন বাংলাদেশের উদীয়মান সেমিকন্ডাক্টর খাত এবং সিলিকন রিভার ভিশনের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল মূলত উদ্ভাবননির্ভর। যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা, নতুন পণ্য, উন্নত প্রকৌশল দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর প্রয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক মূল্য সৃষ্টি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি মূল্য সৃষ্টি হয় এমন প্রযুক্তি ও পণ্য থেকে, যা বিশ্বজুড়ে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করে। আর সরবরাহব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।

এসকে হাইনিক্সের কর্মকর্তারা বাংলাদেশের এই পরিকল্পনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সম্ভাবনা নিয়ে কৌশলগত মূল্যায়নের কথা জানান।

বিএসআইএ সভাপতি এম এ জব্বার দিনব্যাপী কার্যক্রমে অংশ নিয়ে গবেষণা, প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, দক্ষ জনবল উন্নয়ন, শিল্প অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে একীভূত করে সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এরপর প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়ার অন্যতম সেমিকন্ডাক্টর প্যাকেজিং ও পরীক্ষণ প্রতিষ্ঠান হানা মাইক্রোন পরিদর্শন করে।

দিনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ছিল কাইস্ট বৈশ্বিক বাণিজ্যিকীকরণ কেন্দ্র, ক্রেস্ট এবং বিএসআইএর মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। এই সহযোগিতার মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা, প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, উন্নত প্যাকেজিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল উন্নয়ন এবং শিল্প-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংযোগ আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এম এ জব্বার এই সহযোগিতাকে গবেষণা, বাণিজ্যিকীকরণ এবং ইকোসিস্টেম সমন্বয়ের একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ড. মুহাম্মদ মোস্তফা হোসেন ক্রেস্টের আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা, উন্নত প্যাকেজিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক প্রযুক্তি, প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ এবং দক্ষ জনবল উন্নয়নের সমন্বিত পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।

১২ ও ১৩ মে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এই রোডশোতে বিএসআইএর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অংশ নেয় ডাইনামিক সলিউশন ইনোভেটরস, আইটেস্ট বাংলাদেশ, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, প্রাইম সিলিকন টেকনোলজি, সিলিকনোভা এবং উল্কাসেমি।

সংগঠনটি জানায়, মাত্র ছয় মাসেরও কম সময়ে ক্রেস্ট ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কিং আবদুল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কাইস্টের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলেছে।

একই সময়ে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর নকশা প্রতিষ্ঠানগুলো পাইন্স ও সিনিক সলিউশনের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ও ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশ নেয়।

এমএএইচ

শেয়ার করুনঃ