ওশান স্যাটেলাইট স্টেশন: ২০ মিনিটেই মিলবে সমুদ্র ও আবহাওয়ার তথ্য
Published : ১৮:২৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের প্রথম ওশান স্যাটেলাইট গ্রাউন্ড স্টেশনের অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে। আগামী জুন মাসে এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। চালু হলে সমুদ্র, আবহাওয়া ও পরিবেশ-সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহের গতি বহুগুণে বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস পেতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের স্যাটেলাইট ডেটার ওপর নির্ভর করতে হয়, যেখানে সময় লাগে ২০ থেকে ৩০ ঘণ্টা। নতুন গ্রাউন্ড স্টেশন চালু হলে এই সময় কমে দাঁড়াবে মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটে। এতে সাইক্লোন ট্র্যাকিং, উপকূলীয় বন্যা পূর্বাভাস, নদীভাঙন পর্যবেক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্লেষণ আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে।
প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটির মধ্যে চীনের সেকেন্ড ইনস্টিটিউট অব ওশানোগ্রাফি দিয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকার প্রযুক্তিগত সহায়তা। বাকি ২০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। গত বছরের ২৬ মার্চ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়।
স্টেশনটির ডেটা সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ৪২০ টেরাবাইট। ১১টি স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার লক্ষ্য থাকলেও ইতোমধ্যে ৭টির সঙ্গে আংশিক সংযোগ স্থাপন করা গেছে। চীনের পাশাপাশি জাপান ও নাসার স্যাটেলাইট থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণের জন্য বিশেষ সফটওয়্যার তৈরির কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি ডাউনলিংক স্টেশন- এখানে স্যাটেলাইট থেকে ডেটা গ্রহণ করা হয়, প্রেরণ করা হয় না। চালু হলে বঙ্গোপসাগরে সম্ভাব্য মাছ ধরার অঞ্চল শনাক্তকরণ, টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা এবং এসডিজি-১৪ অর্জনে ভূমিকা রাখবে। আগামী ৭ থেকে ৯ জুনের মধ্যে চীনা প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিতে স্টেশনের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট এই কেন্দ্রকে ‘স্যাটেলাইট ওশান অবজারভেশন অ্যান্ড ডেটা ইনোভেশন সেন্টার’ নামে স্বতন্ত্র গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে অনুমোদন দেয়। ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে পরিচালন ব্যয় ভাগাভাগির পরিকল্পনাও রয়েছে।
এমএএইচ














