নিবন্ধন চালু হলেও মোবাইল ফোনের দাম বাড়বে না, ব্যবসায়ীদের প্রতিশ্রুতি
Published : ১৭:৩৪, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
দেশের বাজারে একেকটি জনপ্রিয় মডেলের ১০ লাখ পর্যন্ত ক্লোন-নকল হ্যান্ডসেট ছড়িয়ে পড়েছে। এসব অবৈধ ফোন দিয়ে আর্থিক প্রতারণা থেকে শুরু করে নানা অপরাধ চালাচ্ছে চক্র। ক্রেতারাও অজান্তে নকল ফোন কিনে ঠকে যাচ্ছেন, পাচ্ছেন না ওয়ারেন্টি-আফটার সেলস সার্ভিস।
এসব অভিযোগের অবসান ঘটাতে আগামী বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) থেকে যাত্রা শুরু করছে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) সেবা। তবে এই সিস্টেম চালু হলেও মোবাইল ফোনের দাম এক টাকাও বাড়বে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ নভেম্বর) রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে টেলিকম এবং টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত ‘এনইআইআর বাস্তবায়ন: প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এই আশ্বাস দেন।
বিটিআরসি কমিশনার মোহাম্মাদ মাহমুদ হোসাইন বলেন, “২০১৮ সাল থেকে এনইআইআর বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। নাগরিক নিরাপত্তার স্বার্থে এটি অত্যন্ত জরুরি। বাজারে স্টকে থাকা ৫০-৬০ লাখ হ্যান্ডসেট বৈধ চ্যানেলে আনতে ডিসেম্বরের মধ্যে সমাধান আসবে। ১৬ ডিসেম্বরের আগে কোনও ফোন বন্ধ হবে না। ব্যবসায়ীরা যে দাম না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “হ্যান্ডসেটের মানের ওপর নেটওয়ার্কের মান নির্ভর করে। মিসকমিউনিকেশন যেন না হয়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

এনইআইআর সেবা কতটা সুরক্ষিত- এমন প্রশ্নের জবাবে হেসে বিটিআরসির মহাপরিচালক আমিনুল হক বলেন, “অসম্ভব না, যদি বিটিআরসির ডিজি কম্প্রমাইজ হন!” তিনি জানান, চুরি বা হারিয়ে গেলে ঘরে বসেই ফোন বন্ধ করা যাবে।
মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি (এমআইওবি) জাকারিয়া শাহীদ বলেন, “এনইআইআর আমাদের প্রজেক্ট নয়, এটি জাতীয় ইস্যু। কেউ খারাপ উদ্দেশে এর বিরোধিতা করতে পারে না। দাম বাড়ানোর কোনও সুযোগ নেই।”
মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল হারুন রাজু বলেন, “গ্রে মার্কেটে মাত্র ৫০০-১০০০ জন জড়িত। বাকি ১৮ হাজারের বেশি ব্যবসায়ী বৈধ চ্যানেলে ফোন বিক্রি করেন। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ফোন আসাই মূল সমস্যা। তাই এনইআইআর জরুরি।”
বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, “মোবাইল ব্যবসায় সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই। ২৫০টির বেশি ব্র্যান্ড রয়েছে। আমরা বৈধ ব্যবসায়ীরা ৮-১০ শতাংশ বেশি কমিশন দিতেও রাজি।”
সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলাম, সিনেসিস আইটির সিএসও আমিনুল বারী সৌরভ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন টিআরএনবি সভাপতি সমীর কুমার দে।
এমএএইচ













