কড়াইল বস্তিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণের কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই
Published : ১৫:১৫, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে হাইটেক পার্ক বা কোনও ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি বুধবার (২৬ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি বেসরকারি এক উদ্যোক্তার এ-সংক্রান্ত প্রস্তাবকে ‘অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে তিনি এ ধরনের বক্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য আইটি খাতের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি আলমাস কবির আগেও এই ধরনের প্রস্তাবনা মৌখিক ও লিখিতভাবে দিয়ে আসছেন। সঙ্গতকারণেই সরকার উনার প্রস্তাবনা আমলে নেয়নি। তিনি বলেন, বস্তিতে হাইটেক পার্ক নির্মাণসংক্রান্ত একটি অনভিপ্রেত প্রস্তাব আমাদের নজরে এসেছে। হাজার হাজার মানুষ যখন অসহায় ও গৃহহীন, তখন এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকতে সফটওয়্যার খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আহ্বান জানাই।
ওই পোস্টে আরও বলা হয়, কড়াইল বস্তির প্রায় ৪৩ একর জমির মালিকানা বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নামে থাকলেও এখনও তারা জমি বুঝে পায়নি। আগে জমিটি টিঅ্যান্ডটি (বর্তমানে বিটিসিএল)-এর অধীনে ছিল। মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় আইসিটি বিভাগ সেখানে কোনও ধরনের দখল বা উন্নয়ন কার্যক্রমের চেষ্টাই করেনি।
সফটওয়্যার শিল্পের জন্য বিকল্প জায়গার খোঁজ চলছে। কারওয়ান বাজারের জনতা টাওয়ারে অবস্থিত পুরনো সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখান থেকে কোম্পানিগুলোকে সরিয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এছাড়া গত বছর বনানী অংশের যে ছোট্ট অংশে বস্তি নেই, সেখানে একটি সফটওয়্যার টেক পার্ক ভবন নির্মাণের প্রাথমিক আলোচনা উঠেছিল। কিন্তু মানবাধিকারকর্মীদের পরামর্শে সেই চিন্তাও বাতিল করা হয়।
বর্তমানে আগারগাঁও, পূর্বাচলসহ ঢাকার অন্যান্য এলাকায় সফটওয়্যার পার্কের জন্য জমি চেয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তর ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (রাজউক) চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগারগাঁওয়ে একটি প্লট বরাদ্দও পাওয়া গেছে। সেখানে সফটওয়্যার পার্ক, হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন। গণপূর্ত অধিদপ্তর ইতিমধ্যে সম্মতি দিয়েছে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও লিখেছেন, কড়াইল বস্তিতে অবকাঠামো তৈরির কোনও পরিকল্পনা আমাদের নেই, চলমান কোনও প্রকল্পও নেই, এমনকি সবুজ পাতায়ও কোনো প্রস্তাবনা নেই। তিনি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়- এমন কোনও বক্তব্য না দেওয়ার জন্য। বিশেষ করে যখন বস্তিবাসী আগুনসহ নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিরাপত্তাহীন, তখন এ ধরনের ‘আজগুবি’ প্রস্তাব এনে সরকারকে বিব্রত করার অপচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
এমএএইচ













